ব্যাংক খাত থেকে সরে বস্ত্র ও বিমায় মনোযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: দেশের পুঁজিবাজারে সূচকের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকলেও লেনদেনে ফিরেছে গতি। সদ্য সমাপ্ত সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দৈনিক গড় লেনদেন ৫০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। তবে লেনদেনের এই বৃদ্ধি বাজারের সামগ্রিক শক্তি ফেরার চেয়ে বিনিয়োগকারীদের খাতভিত্তিক অবস্থান পরিবর্তনের প্রবণতাকেই বেশি স্পষ্ট করেছে। বিশেষ করে ব্যাংক খাতের শেয়ার থেকে বিনিয়োগকারীদের মনোযোগ সরে বস্ত্র ও সাধারণ বিমা খাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছে। এর মধ্যে টেক্সটাইল খাত একাই মোট লেনদেনের প্রায় ২৬ শতাংশ দখল করে নিয়েছে।

ডিএসইর সাপ্তাহিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিদায়ী সপ্তাহে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪ দশমিক ৪০ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৪১৩ দশমিক ০৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএস-৩০ সূচক কমেছে ১৮ দশমিক ২৩ পয়েন্ট। অন্যদিকে ডিএসইএস কমেছে ২ দশমিক ৯৬ পয়েন্ট। বাজার মূলধনও এক সপ্তাহে প্রায় ৯২৩ কোটি টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৭৩ হাজার ৫৫৪ কোটি টাকায়।

সূচকের এমন দুর্বলতার বিপরীতে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। সপ্তাহজুড়ে মোট লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ৬৩৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ১৭ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ বেশি। দৈনিক গড় লেনদেন দাঁড়িয়েছে ৫২৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকায়। একই সময়ে ১৭৮টি সিকিউরিটিজের দর বেড়েছে, কমেছে ১৬৩টির। অর্থাৎ সূচক নেতিবাচক থাকলেও বাজারে ক্রেতাদের অংশগ্রহণ পুরোপুরি দুর্বল ছিল না।

খাতভিত্তিক লেনদেনে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে বস্ত্র খাতে। মোট লেনদেনের ২৫ দশমিক ৮৬ শতাংশই হয়েছে এ খাতে। দৈনিক গড় লেনদেন দাঁড়িয়েছে ১৩৬ কোটি ২৪ লাখ টাকায়। পাশাপাশি খাতটির গড় দর বেড়েছে ৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ। ৫৮টি কোম্পানির মধ্যে ৩৫টির দর বৃদ্ধিও এ খাতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের প্রতিফলন। এনভয় টেক্সটাইল, মতিন স্পিনিং ও সায়হাম টেক্সটাইলের মতো কোম্পানিতে বড় অঙ্কের লেনদেন এ প্রবণতাকে আরও স্পষ্ট করেছে।

অন্যদিকে সাধারণ বিমা খাতে দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছে ৭০ কোটি ৩২ লাখ টাকা, যা মোট লেনদেনের ১৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ। আগের সপ্তাহের তুলনায় এ খাতে লেনদেন বেড়েছে ৫৩ দশমিক ৩০ শতাংশ। বিপরীতে ব্যাংক খাতে দৈনিক গড় লেনদেন প্রায় ৪৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ কমে ৫১ কোটি ৮৪ লাখ টাকায় নেমেছে। আগের সপ্তাহে যা ছিল ১০১ কোটি ৪১ লাখ টাকা। অর্থাৎ ব্যাংক খাত থেকে বস্ত্র ও সাধারণ বিমা খাতে বিনিয়োগকারীদের মনোযোগ সরে যাওয়ার প্রবণতা স্পষ্ট হয়েছে।

কোম্পানিভিত্তিক লেনদেনেও টেক্সটাইলের আধিপত্য দেখা গেছে। এনভয় টেক্সটাইল দৈনিক গড়ে ২১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা লেনদেন নিয়ে শীর্ষে ছিল। মতিন স্পিনিংয়ের লেনদেন হয়েছে ২০ কোটি ৭২ লাখ টাকা। দর বৃদ্ধির তালিকায় মতিন স্পিনিং ২৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ উত্থান নিয়ে শীর্ষে উঠে এসেছে। অন্যদিকে ওইমেক্স ইলেকট্রোডের দর বেড়েছে ২১ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

ব্লক মার্কেটেও উল্লেখযোগ্য লেনদেন হয়েছে। সপ্তাহজুড়ে সেখানে ১১৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। এনভয় টেক্সটাইল, অ্যাপেক্স স্পিনিং ও জিকিউ বলপেনের শেয়ার লেনদেন ছিল উল্লেখযোগ্য।

বাজার সংশ্লিষ্টদের জন্য এখন বড় প্রশ্ন, লেনদেন বৃদ্ধির এই প্রবণতা কতটা টেকসই হবে। বিশেষ করে ব্যাংক খাতের লেনদেন কমে যাওয়ার বিপরীতে টেক্সটাইল ও বিমায় অর্থের প্রবাহ বৃদ্ধি সাময়িক খাতভিত্তিক অবস্থান পরিবর্তন, নাকি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ কৌশলের পরিবর্তন তা বোঝার জন্য পরবর্তী কয়েক সপ্তাহের লেনদেন ও কোম্পানির আর্থিক ফলাফল পর্যবেক্ষণ জরুরি। সূচকের স্থায়ী পুনরুদ্ধারের জন্য শুধু লেনদেন বৃদ্ধি নয়, বড় মূলধনি ও মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানিতে ধারাবাহিক ক্রয়চাপও প্রয়োজন।