পরিত্যক্ত জলাশয়ে লাল শাপলা, মুগ্ধ দর্শনার্থীরা
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: একসময় পরিত্যক্ত জলাশয় ছিল, এখন সেখানে দোল খাচ্ছে হাজারো লাল শাপলা। ভোরের আলো ফুটতেই প্রস্ফুটিত ফুলের মায়াবী সৌন্দর্য টানছে প্রকৃতিপ্রেমীদের। লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার তেওয়ারীগঞ্জ ইউনিয়নে ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে ওঠা ‘সাহেব বাড়ি শাপলা বাগান’ এখন স্থানীয়দের পাশাপাশি দূরদূরান্তের দর্শনার্থীদের কাছেও আকর্ষণীয় স্থান হয়ে উঠেছে।

সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ-কুশখালী-নোয়াখালী সড়কের পূর্ব চর মনসা গ্রামের পাশে প্রায় ১৪৩ শতাংশ জলাশয়জুড়ে এই বাগান। ২০২০ সালে পরিত্যক্ত জলাশয়টি খনন করে বাগান গড়ে তোলেন কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম। বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে নয়, প্রকৃতির সৌন্দর্য বাড়ানোর ভাবনা থেকেই বরিশালের উজিরপুর থেকে লাল শাপলার কন্দ এনে রোপণ করেন তিনি। নিয়মিত পরিচর্যায় এখন পুরো জলাশয়জুড়ে ফুটেছে অসংখ্য শাপলা।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন ভোর থেকেই বাগানে দর্শনার্থীদের আনাগোনা শুরু হয়। বিশেষ করে ফজরের নামাজের পর থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত ফুলগুলো পূর্ণ প্রস্ফুটিত থাকায় এ সময় ভিড় বেশি থাকে। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে অনেকেই আসেন ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে, ছবি তুলতে এবং নির্মল পরিবেশে কিছুটা সময় কাটাতে।

স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘একসময় এই জলাশয়টি ডোবা হিসেবে পড়ে ছিল। জাহাঙ্গীরের উদ্যোগে আজ পুরো এলাকা লাল শাপলার রঙে রূপ নিয়েছে। ভোরে ঘুম থেকে উঠলেই ফুলের সৌন্দর্য মন ভালো করে দেয়।’

পরিবার নিয়ে বাগান দেখতে আসা দর্শনার্থী তাসলিমা আক্তার বলেন, ‘সন্তানদের নিয়ে লাল শাপলার বাগান দেখতে এসেছি। সত্যিই খুব মনোরম দৃশ্য। শহরে এমন নির্মল পরিবেশ আর লাল শাপলার মেলা সহজে দেখা যায় না।’

বন্ধুদের সঙ্গে ছবি ও ভিডিও তুলতে আসা তরুণ সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘আমরা ভোরেই চলে এসেছি। তবে অনেকে ফুল ছিঁড়ে ফেলছেন, যা খুবই দুঃখজনক। এত সুন্দর একটি জায়গার সৌন্দর্য রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব।’

দর্শনার্থীদের অসচেতন আচরণে ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয় যুবক তানভীর হোসেনও। তার অভিযোগ, অনেকে ছবি তোলার সময় না বুঝেই ফুল ছিঁড়ে ফেলেন। এতে বাগানটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে।

উদ্যোক্তা অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘নিজের মনের তাগিদ থেকেই এই উদ্যোগ নিয়েছি। আমার প্রচেষ্টায় যখন অন্য মানুষের মুখে হাসি ফোটে, প্রকৃতি সুন্দর হয়ে ওঠে, তখন খুব ভালো লাগে। সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক কোনো পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াই নিজের ভালো লাগা থেকে বাগানটি টিকিয়ে রেখেছি।’

—জা. অর্থনীতি/এলএটি