আন্তর্জাতিক ডেস্ক: হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে কোনো কার্যকর চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে আসন্ন শীতে ইউরোপজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিতে পারে। প্যারিসভিত্তিক আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) তাদের সর্বশেষ ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে এই আশঙ্কার কথা প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি আগামী বছরের শুরু পর্যন্ত অবরুদ্ধ থাকলে এবং মহাদেশটিতে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ দেখা দিলে ইউরোপের গ্যাস মজুত সক্ষমতা মাত্র ১০ শতাংশে নেমে আসতে পারে। সাধারণত মজুত ধারণক্ষমতা ৩০ শতাংশের নিচে নামলেই বাসাবাড়ি ও শিল্প-কারখানায় সরবরাহ শ্লথ হতে শুরু করে, যা শীতের শেষভাগে পুরো জ্বালানি বাজারকে চরম ঝুঁকিতে ফেলবে এবং পরবর্তী গ্রীষ্মে মজুতাগারগুলো পুনরায় পূর্ণ করার প্রক্রিয়াকে ব্যয়বহুল করে গ্যাসের দাম দীর্ঘদিন চড়া রাখবে।
গত মার্চ মাস থেকে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্বের মোট গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ (২০ শতাংশ) কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। সৌদি আরব বা সংযুক্ত আরব আমিরাত তেলের ক্ষেত্রে বিকল্প পাইপলাইন ব্যবহারের সুযোগ পেলেও শীর্ষ এলএনজি রপ্তানিকারক কাতার অন্য কোনো নৌপথ ব্যবহার করতে পারছে না। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র রপ্তানি বাড়ালেও কাতারের শূন্যতা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না; উপরন্তু ইউরোপীয় ক্রেতাদের চেয়ে চড়া দাম দিয়ে মার্কিন এলএনজি কিনে নিচ্ছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। ফলে ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতি জার্মানির গ্যাস মজুত এখনো ধারণক্ষমতার দুই-তৃতীয়াংশের নিচে আটকে রয়েছে, যদিও শীত শুরুর আগেই নিজস্ব আইন অনুযায়ী দেশটির মজুত অন্তত ৮০ শতাংশে উন্নীত করার বাধ্যতামূলক নির্দেশনা রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর হরমুজ সংকট নিরসনে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ট্রাম্প সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে কূটনীতিকে আরও কিছুটা সময় দেওয়ার কথা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে জানিয়েছেন। অন্যদিকে কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ওয়াশিংটনের সঙ্গে শান্তি আলোচনার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছেন বলে ইরানি গণমাধ্যমে খবর এসেছে। এই ইতিবাচক খবরের প্রভাবে ইউরোপের বাজারে তাৎক্ষণিকভাবে গ্যাসের দাম ১০ শতাংশ কমে প্রতি মেগাওয়াট-ঘণ্টা ৯৩ ইউরোর সামান্য ওপরে নেমে আসে; যদিও আইইএ জানিয়েছে চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ইউরোপের স্পট মূল্য গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এখনো ৯০ শতাংশ বেশি।
সম্ভাব্য সংকট নিয়ে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেন ফরাসি বহুজাতিক জ্বালানি জায়ান্ট টোটালএনার্জিসের প্রধান নির্বাহী প্যাট্রিক পুয়ানে। তিনি মনে করেন, ইউরোপে সরাসরি গ্যাস প্রাপ্তির চরম ঘাটতি না হলেও আকাশচুম্বী মূল্যের বোঝা বইতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ সংকুচিত থাকায় ইউরোপীয় দেশগুলোকে অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি দাম দিয়েই জ্বালানি কিনতে হবে। ফলে যুদ্ধজনিত অস্থিরতায় বাজারে গ্যাসের সরবরাহ বজায় থাকলেও উচ্চমূল্যের ধাক্কা পুরো ইউরোপের অর্থনীতি ও সাধারণ ভোক্তাদের ওপর দীর্ঘস্থায়ী চাপ সৃষ্টি করবে।
জেএ/অভি
