জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: শিক্ষাজীবন শেষ করেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত চাকরি। যে ডিগ্রি নিয়ে ভালো চাকরির স্বপ্ন দেখেছিলেন , সেই ডিগ্রিই কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। যোগ্য চাকরি না পেয়ে অন্য কাজে ৬০ শতাংশ স্নাতক ডিগ্রিধারী।
দেশের কর্মক্ষম মানুষের প্রায় ৮৪ শতাংশ বা ৫ কোটি ৮০ লাখই কাজ করছেন অনানুষ্ঠানিক বা বেসরকারি খাতে। বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদন বলছে , স্নাতক বা তার বেশি শিক্ষিতদের ৬০ শতাংশের বেশি যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি না পেয়ে অনানুষ্ঠানিক কাজে যুক্ত হচ্ছেন। এসব কাজে তাদের আয় আনুষ্ঠানিক খাতের তুলনায় ৪৫ থেকে ৮৪ শতাংশ কম।
প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০৪৫ সালে বাংলাদেশের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে।
এদিকে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বাংলাদেশের প্রস্তুতিও দুর্বল। গ্রামে ৭০ শতাংশ মানুষ বাস করলেও স্বাস্থ্যকর্মীদের মাত্র ২০ শতাংশ সেখানে কর্মরত। প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষায় ভর্তির হারও মাত্র ৩৬ শতাংশ।
বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস বলছে, ২০৫০ সালের মধ্যে দেশে কর্মসংস্থানের চেয়ে শ্রমের জোগান ১ কোটি ৩০ লাখ বেশি হতে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, নারীদের কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানে অর্থায়ন সহজ করার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।
প্রতিবেদন প্রকাশের পরেএকটি আলোচনায় সিপিডির নির্বাহী পরিচালক নাজনীন আহমেদ তার বক্তব্যে বলেন, গত এক দশকে জনমিতিক লভ্যাংশ নিয়ে আলোচনা হলেও তরুণদের বার্ধক্যকালীন পরিস্থিতি যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনটি এ ক্ষেত্রে একটি সতর্কবার্তা।
পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমানের মতে, শুধু কর্মসংস্থান নয়, উৎপাদনশীল ও অর্থবহ কাজের সুযোগও তৈরি করতে হবে।
অন্যদিকে ,পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি বলেছেন, জনসংখ্যার বয়সভিত্তিক পরিবর্তন মোকাবিলায় সব বয়সি মানুষের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে জীবনচক্রভিত্তিক নীতি গ্রহণ করতে হবে। সরকার ইতোমধ্যে এ ধরনের নীতি গ্রহণ করেছে বলেও জানান তিনি।
এছাড়া সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেন, গর্ভধারণ থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে মানুষের সহায়তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার। এ লক্ষ্যে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে এসব কর্মসূচিতে প্রায় ১ লাখ ৫৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সব মিলিয়ে, কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সুবিধা কাজে লাগাতে এখনই কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি বলছে- সময়মতো প্রস্তুতি না নিলে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হওয়ার আগেই বার্ধক্যের বাড়তি চাপে পড়তে পারে বাংলাদেশ।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি
