বরিশাল প্রতিনিধি: বরিশালে সবজির দামে স্থিতিশীলতা থাকলেও মাছের চড়া মূল্যে বাজারে গিয়ে হতাশ হয়ে ফিরছেন ক্রেতারা। ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে বাজারে ইলিশের সরবরাহ বাড়লেও দেশীয় প্রজাতির মাছ কম থাকায় চাহিদা ও দাম বেড়েছে চাষের মাছের। চড়া দামের কারণে মাছ কিনতে পারছেন না সাধারণ মানুষ।
গতকাল সোমবার সকালে বরিশাল নগরীর পোর্ট রোড মাছের বাজার ও বহুমুখী সিটি মার্কেট পাইকারি সবজির বাজার ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র। পোর্ট রোড মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি পাবদা মাছ ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা কেজি, রুই ২৮০ থেকে ৪৫০ টাকা, কাতলা ২৮০ থেকে ৫০০, তেলাপিয়া ১৬০ থেকে ১৮০, পাঙাশ ১৮০ থেকে ২০০, চাষের কৈ ২০০ থেকে ২২০, দেশি কৈ ৫৫০ থেকে ৬০০, চাষের শিং ৫০০ থেকে ৬০০, টেংরা ৫৫০ থেকে ৬৫০, বোয়াল ৬০০ থেকে ৮০০, চিংড়ি ৭৫০ থেকে ১৩০০ এবং কোরাল ৫০০ থেকে ৯৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ইলিশ মাছ আকার ভেদে ৫০০ থেকে ২৮০০ টাকা পর্যন্ত কেজি বিক্রি হচ্ছে।
অপরদিকে পাইকারি সবজির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কাঁচামরিচ গত সপ্তাহের দামে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পটোল ৩০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৪০, চিচিঙ্গা ৪০, ধুন্দল ৫০, ঝিঙা ৪০, করলা ৪০, ফুলকপি ৪০, বাঁধাকপি ৫৫, গাজর ৯০, পেঁপে ৬ থেকে ১০, লাউ ৪০, লেবুর হালি ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে শীতকালীন সিম ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এসব সবজি আবার খুচরা বাজারে ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি করতে দেখা গেছে।
নগরীর বাংলাবাজারে আসা ক্রেতা রাসেল বলেন, কয়েকদিন ধরে সবজির দাম স্বাভাবিক থাকলেও মাছের বাজারে আগুন। নিজেদের নদ-নদীর মাছের দামও নাগালের বাইরে, সাধারণ মানুষ কি কিনে খাবে। এজন্য নিয়মিত বাজার মনিটরিং দরকার। আমিন নামের এক ক্রেতা বলেন, যখন বৃষ্টির সিজন ছিল তখন শুনেছি বৃষ্টির কারণে সবজির সরবরাহ কম তাই দাম বেশি। এখন আবার শুনছি পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে, তাই দাম বাড়তি। বাড়তি দামের কারণে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বেড়েছে। নগরীর বহুমুখী সিটি মার্কেট পাইকারি সবজির বাজারের দুলাল বাণিজ্যালয়ের শুভ নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, দাম কমানো ও বাড়ানোর বিষয়ে এখানকার ব্যবসায়ীদের কোনো হাত নেই। এখানে ব্যবসায়ীরা পণ্য কিনে আনার পর যেমন কেনা তেমন দামে বিক্রি করেন।
এদিকে নগরীর পোর্ট রোড পাইকারি মাছ বাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, নদীর মাছের সরবরাহ না থাকায় চাহিদা ও দাম দুটোই বেড়েছে চাষের মাছের। সপ্তাহ ব্যবধানে আকার ও প্রকারভেদে বিভিন্ন মাছের দাম কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এতে পছন্দের মাছ কিনতে না পারার আক্ষেপ ক্রেতাদের কণ্ঠে। জনি নামে এক ক্রেতা বলেন, এক কেজি চিংড়ি মাছ ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকায় কিনেছি। এখন সেই চিংড়ি মাছ ১৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে অন্যান্য মাছের দামও বেড়েছে। ফলে চাহিদা অনুযায়ী পছন্দের মাছ কিনতে না পেরে তেলাপিয়া ও পাঙাশ মাছ কিনতে হয়। আরেক ক্রেতা একরামুল বলেন, ইলিশ তো আর দেশের বাইরে থেকে রপ্তানি হয় না, নিজেদের নদ-নদীর ইলিশ তাও কেনার সাধ্য নেই, এখন অন্যান্য মাছও কেনা যাচ্ছে না। চাষের পাঙাশ ও তেলাপিয়া মাছের দামও দিনদিন বাড়ছে। আসলে দাম কমানো বা বাড়ানো এটা সম্পূর্ণ ব্যবসায়ীদের কারসাজি।
এদিকে কিছুটা স্বস্তি রয়েছে মুরগির বাজারে। কিছুদিন ধরেই ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে, লেয়ার ৩৩০, আর সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৮০ টাকায়। তবে অপরিবর্তিত রয়েছে গরু ও খাসির মাংসের দাম।
