১০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ! তবুও আগ্রহ নেই ঠিকাদারদের (ভিডিও)
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্য, ছয়তলা ভবন, হোটেল, রেস্তোরাঁ, শপিং স্পেসসহ আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা। পর্যটননগরী কক্সবাজারের আইকনিক রেলস্টেশন ঘিরে ছিল বড় বাণিজ্যিক সম্ভাবনা। কিন্তু নির্মাণ শেষ হওয়ার প্রায় তিন বছর পেরিয়ে গেলেও পুরোপুরি চালু করা যায়নি স্টেশনটি।

পরিচালনার দায়িত্ব নিতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান খুঁজছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। দুই দফায় দরপত্র আহ্বান, এমনকি শর্ত শিথিল করার পরও আগ্রহ দেখাচ্ছেন না ঠিকাদাররা। প্রশ্ন উঠেছে, এত বড় স্থাপনা পরিচালনায় কেন পিছিয়ে থাকছেন ব্যবসায়ীরা?

 

কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশন পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে দিতে চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রথমবার দরপত্র আহ্বান করে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এতে আটটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র সংগ্রহ করলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেউই দরপ্রস্তাব জমা দেয়নি।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর আপত্তি ছিল মূলত বিনিয়োগ ও চুক্তির শর্ত নিয়ে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, স্টেশনটি পরিচালনায় প্রায় ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হতে পারে। অথচ বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক হতে অন্তত দুই বছর সময় লাগতে পারে। এর বিপরীতে প্রাথমিক দরপত্রে চুক্তির মেয়াদ ছিল মাত্র ১২ বছর।

এ ছাড়া ৫ কোটি টাকা অফেরতযোগ্য অগ্রিম, ১৫ কোটি টাকা পারফরম্যান্স সিকিউরিটি, প্রায় ৫০০ লোকবল নিয়োগ এবং পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট যন্ত্রপাতি কেনার শর্ত নিয়েও আপত্তি জানান ব্যবসায়ীরা।

তাদের দাবির প্রেক্ষিতে ৩০ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় দফায় দরপত্র আহ্বান করে রেলওয়ে। এবারের দরপত্রে বেশ কিছু পরিবর্তনও আনা হয়।

কিন্তু এরপরও মিলছে না প্রত্যাশিত সাড়া। গত ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত মাত্র তিনটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র সংগ্রহ করেছে। আগামী ৯ নভেম্বর পর্যন্ত দরপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

সংস্থাটির মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন জানিয়েছেন, ব্যবসায়ীদের আপত্তির বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে দরপত্র পর্যালোচনা করে শর্ত শিথিল করা হয়েছে। এখন প্রতিষ্ঠানগুলো দরপ্রস্তাব জমা দেয় কি না, সেটিই দেখার বিষয়।

রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মামুনুল ইসলাম জানিয়েছেন, নতুন রুটের জনবল নিয়োগের অনুমোদন এখনো জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া যায়নি। ফলে নিজস্ব জনবল দিয়ে স্টেশনটি পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণেই বেসরকারি অপারেটর নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক-এডিবির কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় নির্মিত কক্সবাজার আইকনিক স্টেশনটির মোট আয়তন ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৬৭ বর্গফুট।  স্থাপনায় রয়েছে টিকিট কাউন্টার, ওয়েটিং লাউঞ্জ, পর্যটন তথ্যকেন্দ্র, নিরাপদ লকার, রেস্তোরাঁ, খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র, অফিস স্পেস, বহুমুখী হল এবং ৩৯ কক্ষের হোটেল।

রেলওয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দায়িত্ব পাওয়া প্রতিষ্ঠান স্টেশনটির রক্ষণাবেক্ষণ, ইউটিলিটি বিল ও কর্মচারী ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করবে। বিনিময়ে নির্ধারিত জায়গাগুলো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়া দিতে পারবে। তবে প্রতি বছর চুক্তিমূল্যের ৫ শতাংশ হারে ভাড়া বাড়ানোর শর্তও রয়েছে।

সব মিলিয়ে, কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগে নির্মিত কক্সবাজারের আইকনিক রেলস্টেশন এখনো তার পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারছে না। ঠিকাদারদের আগ্রহ না বাড়ায় অনিশ্চয়তা কাটছে না পরিচালনা নিয়ে। আগামী ৯ নভেম্বরের মধ্যে কোনো প্রতিষ্ঠান দরপ্রস্তাব জমা দেয় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রেলওয়ে।
  —জা. অর্থনীতি/এলএটি