পাবনা প্রতিনিধি: পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নে একটি আবাসিক মহিলা মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থীকে (১০) ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মাদ্রাসার পরিচালক আবু ইউসুফকে (৪৫) আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মাদ্রাসাটিতে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) গভীর রাতে উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের ভাউডাঙ্গা কালুরপাড়া এলাকায় অবস্থিত ‘নূরে মদিনা আবাসিক মহিলা মাদ্রাসা’য় এ ঘটনা ঘটে। আটক আবু ইউসুফ জেলার আতাইকুলা থানার খালিশপুর গ্রামের মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় ইসায় প্রামাণিকের বাড়ি ভাড়া নিয়ে আবু ইউসুফ কয়েক বছর আগে ওই মহিলা মাদ্রাসা গড়ে তুলে পরিচালনা করে আসছিলেন। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক নিজের শয়নকক্ষে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালান তিনি। এ সময় ওই শিক্ষার্থীর এক সহপাঠী ঘটনাটি দেখে ফেলে বাইরে গিয়ে চিৎকার শুরু করে। তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে শিশুটিকে উদ্ধার করেন এবং অভিযুক্ত পরিচালককে অবরুদ্ধ করে পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত আবু ইউসুফকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এদিকে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ভাড়া বাড়িতে গড়ে ওঠা ওই মাদ্রাসায় হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেন এবং আগুন ধরিয়ে দেন।
পাবনার পুলিশ সুপার জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুটির চাচা বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, মাদ্রাসাটিতে আবু ইউসুফের সঙ্গে তার স্ত্রীও বসবাস করতেন। তবে ঘটনার দিন সকালেই তিনি তার স্ত্রীকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি