নিকলীতে সার সংকটে বিপাকে কৃষক
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

আল-আমিন হাসান, নিকলী (কিশোরগঞ্জ): কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় রবি শস্যের মৌসুমের শুরুতেই রাসায়নিক সারের সংকটে পড়েছেন কৃষকেরা। জমি প্রস্তুত করেও প্রয়োজনীয় সার না পাওয়ায় সময়মতো বীজ বপন করতে পারছেন না অনেকে।

এদিকে খুচরা বাজারে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগও উঠেছে। এতে চলতি মৌসুমে ফসলের আবাদ ও উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন কৃষকেরা।

হাওরে অতিবৃষ্টি ও বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে নতুন করে ফসল ফলানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন কৃষকেরা। পানি নেমে যাওয়ায় এবার অনেক জমি চাষের উপযোগী হয়েছে। তবে জমি প্রস্তুত করার পরও সারের অভাবে চাষাবাদ শুরু করতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন তারা।

উপজেলার দামপাড়া, মজলিসপুর, আহসানপুর, সিংপুর, ভাটিবরাটিয়া, ছেত্রা, পূর্বগ্রাম, জাফরাবাদ ও বেরিবাঁধ হাওরসহ বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে সারের সংকটের কথা জানা গেছে।

কৃষকেরা জানান, এবার সরিষা, মাসকলাই, আলু, ভুট্টা ও মরিচসহ বিভিন্ন রবি শস্য চাষের পরিকল্পনা করেছেন তারা। কিন্তু ডিলারদের কাছে প্রয়োজনীয় সার না থাকায় জমি প্রস্তুত করেও বীজ বপন করা যাচ্ছে না। এতে জমির আর্দ্রতা কমে যাওয়া ও মাটি শক্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। নির্ধারিত সময়ে বীজ বপন করতে না পারলে ফলনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে তাদের ধারণা।

উপজেলার শহরমূল এলাকার কৃষক মাসুম মিয়া (৪৮) বলেন, তার ২২ একর জমির জন্য ইউরিয়া সার প্রয়োজন। গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় ডিলারের কাছে গিয়েও সার পাননি তিনি। কয়েক দিন পর আসতে বলা হলে হতাশ হয়ে ফিরে যান।

কারপাশা ইউনিয়নের কৃষক হারিস আহমেদ (৫০) বলেন, কয়েক দিন আগে জমি প্রস্তুত করেছেন। কিন্তু ইউরিয়া সার না পাওয়ায় চাষাবাদ শুরু করতে পারছেন না। এর মধ্যে মাটি শক্ত হয়ে যাচ্ছে। কয়েকবার ডিলারদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও সার সংগ্রহ করতে পারেননি তিনি।

একই সমস্যায় পড়েছেন সিংপুর ইউনিয়নের কৃষক মো. রোকন (৩২)। তিনি বলেন, ভুট্টা চাষের জন্য আট একর জমি প্রস্তুত করেছেন। কিন্তু সার না পাওয়ায় বীজ বপন করতে পারছেন না। ডিলারের পক্ষ থেকে সোমবার বা মঙ্গলবার সার পাওয়ার সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে।

রোকন আরও বলেন, প্রতি বিঘা জমিতে তার প্রায় ৫০ কেজি সার প্রয়োজন। কিন্তু ডিলাররা ১৫ কেজি করে সার দিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন। প্রয়োজনের তুলনায় কম সার দিয়ে কীভাবে চাষাবাদ করবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।

সারের সংকটের বিষয়ে ডিলারদের কেউ কেউ কৃষকদের অতিরিক্ত সার ব্যবহারের প্রবণতার কথা উল্লেখ করেছেন।

তাদের দাবি, প্রতি বিঘা জমিতে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে বেশি ফসফেট সার ব্যবহার করেন অনেক কৃষক। নিয়ম অনুযায়ী ১৫ কেজি ব্যবহারের কথা থাকলেও কেউ কেউ ৩০ কেজি বা তারও বেশি প্রয়োগ করেন। এতে সারের চাহিদা বেড়ে যায়।

সিংপুর ইউনিয়নের বিএডিসির সার ডিলার মেসার্স আজিজুর রহমানের স্বত্বাধিকারী আজিজুর রহমান বলেন, আজ সকালে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছ থেকে বরাদ্দের অনুমতি নেওয়া হয়েছে। সোমবার সার এনে কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

নিকলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল সামাদ বলেন, দীর্ঘ ছুটির কারণে সাময়িকভাবে সারের সংকট তৈরি হয়েছে। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করছেন তিনি।

কৃষকদের আশঙ্কা, সময়মতো পর্যাপ্ত সার না পেলে নির্ধারিত সময়ে রবি শস্যের আবাদ শেষ করা কঠিন হয়ে পড়বে। এতে বাড়তি খরচের পাশাপাশি ফসলের উৎপাদনও ব্যাহত হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

—জা.অর্থনীতি/এনজে