৫ হাজার ডলার বেতন, কিন্তু হাতে কত থাকে? (ভিডিও)
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: আমেরিকায় ৫ হাজার ডলার বেতনের অফার লেটার হাতে পেয়ে ভাবছেন জীবন বদলে গেল? মাস শেষে ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেখে চোখ চড়কগাছ হওয়া কিন্তু নিশ্চিত! ৫ হাজার ডলার পকেটে ঢোকার আগেই কোথায় গায়েব হয়ে যায়, হিসাবটা জানেন তো?

আমেরিকায় যেকোনো চাকরির অফার লেটার পেলে আমরা প্রথমেই চোখ বুজে বেতনটা দেখি। ধরুন, আপনি মাসে ৫ হাজার ডলার বা বছরে ৬০ হাজার ডলার বেতনের একটি চাকরি পেলেন। কিন্তু মাস শেষে এই পুরো ৫ হাজার ডলার কি আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে?

 

একদমই না! আমেরিকান ট্যাক্স সিস্টেমের জটিল মারপ্যাঁচে আপনার বেতনের একটি বড় অংশ শুরুতেই কেটে নেওয়া হয়। তাহলে সব ধরনের ট্যাক্স বাদ দিয়ে মাস শেষে বাস্তবে আপনার পকেটে কত টাকা আসছে? চলুন, একদম সহজ অংকে জেনে নেওয়া যাক।

আমেরিকায় চাকরি করলে বেতন থেকে মূলত দুই ধরনের প্রধান ট্যাক্স কাটা হয়।

প্রথমটি হলো ফেডারেল পে-রোল ট্যাক্স। এর ভেতরে রয়েছে দুটি অংশ—সোশ্যাল সিকিউরিটি ট্যাক্স ৬.২ শতাংশ এবং মেডিকেয়ার ট্যাক্স ১.৪৫ শতাংশ। অর্থাৎ, আপনার ৫ হাজার ডলারের বেতন থেকে প্রতি মাসের শুরুতেই কোনো কথা ছাড়া বাধ্যতামূলকভাবে ৩৮২ ডলার ৫০ সেন্ট কেটে নেওয়া হবে।

দ্বিতীয় ধাক্কাটি হলো ফেডারেল ইনকাম ট্যাক্স। আপনি যদি সিঙ্গেল ফাইলার হন, তবে বছরে ৬০ হাজার ডলার আয়ে স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন বাদ দেওয়ার পর আনুমানিক ৮ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত ট্যাক্স কাটবে। যার পরিমাণ মাসে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ ডলারের মতো। তবে আপনি প্রকৃতপক্ষে কত টাকা পকেটে নিয়ে বাড়ি ফিরবেন, তা সবচেয়ে বেশি নির্ভর করে আপনি আমেরিকার কোন স্টেট-এ বাস করছেন তার ওপর।

যেমন ধরুন, আপনি যদি টেক্সাস, ফ্লোরিডা, ওয়াশিংটন বা নেভাদার মতো স্টেটে থাকেন, তবে বড় ধরনের ছাড় পাবেন। কারণ সেখানকার নিয়ম অনুযায়ী আলাদা কোনো স্টেট ইনকাম ট্যাক্স নেই। ফলে শুধুমাত্র ফেডারেল ও পে-রোল ট্যাক্স কেটে মাস শেষে আপনার হাতে থাকবে প্রায় ৪ হাজার ১৫০ থেকে ৪ হাজার ২২০ ডলার।

কিন্তু ভুল করেও যদি ক্যালিফোর্নিয়া বা নিউ ইয়র্কের মতো উচ্চ ট্যাক্সের স্টেটে বাস করেন, তবে হিসাব বদলে যাবে। সেখানে স্টেট এবং লোকাল সিটি ট্যাক্স বাবদ আরও ৩ থেকে ৬ শতাংশ কেটে নেওয়া হবে। ফলে মাস শেষে আপনার হাতে অবশিষ্ট থাকবে মাত্র ৩ হাজার ৭৫০ থেকে ৩ হাজার ৮৫০ ডলারের মতো!

গল্প কিন্তু এখানেই শেষ নয়! আপনি যদি কোম্পানি থেকে হেলথ ইন্স্যুরেন্স কিংবা রিটায়ারমেন্ট ফান্ড 401(k)-এর সুবিধা নেন, তবে সেখান থেকেও প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা কাটা যাবে। যা আপনার টেক-হোম পে বা নিট বেতনকে আরও কিছুটা কমিয়ে দেবে।

সহজ কথায়, আমেরিকায় কাগজে-কলমে মাসে ৫,০০০ ডলার আয় করলেও সব রকম বাধ্যতামূলক ট্যাক্স ও কর্তন শেষে দিনশেষে আপনার পকেটে ঢুকবে আনুমানিক ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার ২০০ ডলার।

৫ হাজার ডলার বেতন, কিন্তু হাতে কত থাকে?

আমেরিকায় মাসে ৫ হাজার ডলার বেতনের চাকরি পেয়ে ভাবছেন মাসে প্রায় ৬ লাখ টাকা ইনকাম? দাঁড়ান, এত খুশি হওয়ার কিছু নেই! মাস শেষে আপনার ব্যাংকে ৫ হাজার ডলারের ১ ডলারও বেশি ঢুকবে না, বরং ঢুকবে অনেক কম। প্রথমেই সোশ্যাল সিকিউরিটি ও মেডিকেয়ার ট্যাক্স বাবদ ৩৮২ ডলার গায়েব! এরপর ফেডারেল ইনকাম ট্যাক্সে যাবে আরও প্রায় ৫০০ ডলার। আর আপনি যদি নিউ ইয়র্ক বা ক্যালিফোর্নিয়ায় থাকেন, তবে স্টেট ট্যাক্সের নামে আরও শয়ে শয়ে ডলার নাই! সব কাটাকুটি শেষে আপনার হাতে আসবে ৩ হাজার ৭৫০ থেকে ৪ হাজার ২০০ ডলার। আমেরিকায় বেতনের কাগজ আর হাতের টাকার ফারাকটা ঠিক এতটাই!

আমেরিকায় ৫ হাজার ডলার বেতন, হাতে আসবে কত?

আমেরিকায় একই বেতনে কেউ মাসে ৫০০ ডলার বেশি জমায়, আবার কেউ পুরোটাই ট্যাক্সে দেয়! কীভাবে? ধরুন আপনার বেতন মাসে ৫ হাজার ডলার। আপনি যদি টেক্সাস বা ফ্লোরিডায় থাকেন, তবে কোনো স্টেট ইনকাম ট্যাক্স না থাকায় মাস শেষে পকেটে ঢুকবে প্রায় ৪ হাজার ২০০ ডলার। কিন্তু একই বেতনে আপনি যদি নিউ ইয়র্ক বা ক্যালিফোর্নিয়ায় থাকেন, তবে স্টেট ও সিটি ট্যাক্সের ধাক্কায় হাতে পাবেন মাত্র ৩ হাজার ৮০০ ডলার! অর্থাৎ শুধু স্টেট বদলালেই প্রতি মাসে আপনার পকেটে ৪০০ ডলার বেশি থাকবে। আমেরিকায় চাকরি করার আগে তাই বেতন নয়, স্টেটের ট্যাক্স রেট দেখুন!  

—জা. অর্থনীতি/এলএটি