যমুনা সেতুর সম্পদভিত্তিক সুকুক ছাড়তে চায় সরকার (ভিডিও)
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের বড় অবকাঠামোকে কাজে লাগিয়ে অর্থ সংগ্রহের নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এবার লক্ষ্য যমুনা সেতু! সেতুর সম্পদের বিপরীতে শরিয়াহভিত্তিক বিনিয়োগপত্র বা সুকুক ছাড়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এর আগে স্বল্পমেয়াদি সুকুক ইস্যু করে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১০ গুণেরও বেশি দরপ্রস্তাব পেয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তাহলে যমুনা সেতুকে ঘিরে সরকারের এই পরিকল্পনা কী, আর বিনিয়োগকারীদের মুনাফা কীভাবে নির্ধারিত হবে?

দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্বল্পমেয়াদি সুকুক ইস্যু করে বড় সাড়া পাওয়ার পর এই বিনিয়োগের বাজার আরও সম্প্রসারণ করতে চায় সরকার। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্মিত ও নির্মাণাধীন সেতু এবং অন্যান্য অবকাঠামোর বিপরীতে সম্পদভিত্তিক সুকুক ছাড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর প্রথম ধাপে রয়েছে যমুনা সেতু।

 

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে যমুনা সেতুকে কেন্দ্র করে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে সেতুর বিপরীতে ঠিক কত টাকা সংগ্রহ করা হবে, কিংবা কবে নাগাদ সুকুক ছাড়া হবে, তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। বিষয়টি নির্ভর করছে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।

যমুনা সেতুকে ঘিরে সুকুক ছাড়ার প্রস্তাব অবশ্য নতুন নয়। কয়েক মাস আগে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ বা আইসিবি অর্থমন্ত্রীর কাছে সেতুটির বিপরীতে সুকুক ইস্যুর প্রস্তাব দিয়েছিল।

দরপত্রের নথি অনুযায়ী, যমুনা সেতুর দৈর্ঘ্য ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার। এর সঙ্গে রয়েছে ৩ দশমিক ২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের দুটি গাইড বাঁধ, ৩১ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক এবং দুই প্রান্তে দুটি টোল প্লাজা। সেতুটির প্রধান আয়ের উৎস টোল আদায়।

তবে এখানে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। সম্পদভিত্তিক সুকুক আর সম্পদ-সমর্থিত সুকুক এক নয়। সম্পদ-সমর্থিত সুকুকে বিনিয়োগকারীরা প্রকৃত অর্থে সংশ্লিষ্ট সম্পদের মালিকানা পান এবং এর ঝুঁকি ও সুবিধা বহন করেন। অন্যদিকে সম্পদভিত্তিক সুকুকে সম্পদ মূলত আইনি কাঠামো হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ফলে বিনিয়োগকারীদের মুনাফা সেতুর টোল আয়ের ওপর সরাসরি নির্ভর না করে সরকারের পরিশোধের প্রতিশ্রুতির ওপর নির্ভর করতে পারে। এ কাঠামো নিয়ে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন।

এদিকে, গত ২৯ জুন ‘অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পল্লি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-২’ বা আইআরআইডিপি-২-এর বিপরীতে ২৭৩ দিন মেয়াদি স্বল্পমেয়াদি সুকুক ইস্যু করা হয়। এর আগে ২৮ জুনের নিলামে ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে বিনিয়োগকারীরা দরপ্রস্তাব দেন ৫৬ হাজার ৬০৭ কোটি টাকার, যা লক্ষ্যমাত্রার ১০ গুণেরও বেশি। এই সুকুকের মেয়াদ শেষ হবে ২০২৭ সালের ২৯ মার্চ।

প্রকল্পটির আওতায় ৬৪ জেলার ২৮৪টি নির্বাচনি এলাকায় ৬৩টি হাটবাজার উন্নয়ন, ৪০টি ঘাট নির্মাণ এবং ইউনিয়ন, উপজেলা ও গ্রামীণ পর্যায়ে ৯ হাজার কিলোমিটারের বেশি সড়ক উন্নয়ন করা হয়। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ছিল ৫ হাজার ৯৪৭ কোটি ৪১ লাখ টাকা। এর বিপরীতে থাকা সম্পদের সুবিধাভোগী মালিকানা ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় বিশেষ উদ্দেশ্যে গঠিত প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এর আগে গ্রামীণ সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় থেকে ৩ হাজার কোটি টাকার সুকুক ছাড়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। চলতি বছরের মে মাসে একই ধরনের প্রকল্পের বিপরীতে সাত বছর মেয়াদি ৫ হাজার ৯০০ কোটি টাকার সুকুকের নিলাম আয়োজনের ঘোষণাও আসে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত সুকুক ইস্যুর মাধ্যমে সরকার ৫৩ হাজার কোটি টাকার বেশি সংগ্রহ করেছে।

এখন দেখার বিষয়, যমুনা সেতুকে ঘিরে নতুন সুকুকের মাধ্যমে সরকার কত টাকা সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেয় এবং বিনিয়োগের এই কাঠামো কীভাবে চূড়ান্ত হয়।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি