পূজার ছুটিতে লাউয়াছড়ায় পর্যটকের ভিড়

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: শারদীয় দুর্গাপূজার টানা ছুটির সুযোগে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে পর্যটকের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। সরকারি ছুটির সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি যোগ হওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো ভ্রমণপিপাসু ছুটে এসেছেন চায়ের রাজধানীতে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সরেজমিনে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ঘুরে দেখা যায়, বনের সবুজ ছায়ায় হাজারো পর্যটকের পদচারণা। চা-বাগান, পাহাড় ও বনাঞ্চল ঘেরা মৌলভীবাজার জেলায় সাতটি উপজেলায় ছড়িয়ে আছে শতাধিক দর্শনীয় স্থান। এবার পূজার ছুটিতে সবগুলো স্পটেই ছিল একই চিত্র।

পর্যটন জেলার প্রধান আকর্ষণ লাউয়াছড়া ছাড়াও মাধবপুর লেক, মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, হামহাম জলপ্রপাত, বাইক্কা বিল, হাকালুকি হাওর, মনু ব্যারেজ, বিটিআরআই, চা-কন্যা ভাস্কর্য, নীলকণ্ঠ টি কেবিন, সীতেশ বাবুর চিড়িয়াখানাসহ সব কেন্দ্রেই ছিল উপচে পড়া ভিড়। ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের বহরে পুরো জেলা এখন উৎসবমুখর।

তবে অতিরিক্ত পর্যটকের চাপে শ্রীমঙ্গল শহরে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে, ফলে অনেককে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

ঈদুল আজহার প্রায় ৪ মাস পর এই ছুটিতে পর্যটকের এমন ঢল স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।

পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানান, জেলায় প্রায় ১০ হাজার পরিবার সরাসরি পর্যটন খাতের ওপর নির্ভরশীল।

ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে আসা পর্যটক মাহবুবুর রহমান চৌধুরী বলেন, এক বছর পর আবার মৌলভীবাজারে এসেছি। লাউয়াছড়ার প্রাকৃতিক দৃশ্য সত্যি অসাধারণ। তবে এক পর্যটন কেন্দ্র থেকে অন্য কেন্দ্রে যাওয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই নাজুক।

পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে টুরিস্ট পুলিশের শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ জোনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হোসেন চৌধুরী বলেন, লাউয়াছড়াসহ গুরুত্বপূর্ণ সব বিনোদনকেন্দ্রে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও নিরবচ্ছিন্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে আমরা সার্বক্ষণিক কাজ করছি।

জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ৪৬০ প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণী রয়েছে। ১৯৯৬ সালে এটিকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

—জা. অর্থনীতি/এনজে