পুলিশের জন্যে নতুন ৫,৮৩০ গাড়ি, কাজের গতি কি সত্যিই বাড়বে? (ভিডিও)
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের ৬৩৯টি থানায় গড়ে দুটি করেও গাড়ি নেই। পুলিশের বিদ্যমান যানবাহনের প্রায় ৬৪ শতাংশই ১০ বছরের বেশি পুরোনো। এমন পরিস্থিতিতে অপরাধ দমন, টহল ও জরুরি পুলিশি সেবা জোরদার করতে ৫ হাজার ৮৩০টি নতুন গাড়ি কেনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

 

এ জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ হাজার ৬০৯ কোটি টাকা। পুলিশের অপারেশনাল ও বিশেষায়িত সক্ষমতা বাড়াতে নেওয়া দুটি প্রকল্প আগামী রোববারের একনেক সভায় অনুমোদনের জন্য তোলার কথা রয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, দুটি প্রকল্পের আওতায় কেনা হবে ৪ হাজার ৮২৯টি অপারেশনাল এবং ১ হাজার একটি বিশেষায়িত যানবাহন। অপারেশনাল যানবাহন কিনতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৩২৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা। আর বিশেষায়িত যানবাহনের জন্য ব্যয় হবে ২ হাজার ২৮০ কোটি ১৪ লাখ টাকা।

প্রকল্প দুটির পুরো অর্থই জোগান দেবে সরকার। চলতি বছরের অক্টোবর থেকে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত সারা দেশে এগুলো বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

কেন এত বিপুলসংখ্যক গাড়ি প্রয়োজন?

বর্তমানে দেশের ৬৩৯টি প্রশাসনিক থানায় পুলিশের যানবাহন রয়েছে মাত্র ১ হাজার ২৩৭টি। অর্থাৎ, থানাপ্রতি গড়ে দুটি গাড়িও নেই। এর মধ্যে ৬৪ শতাংশ যানবাহনই ১০ বছরের বেশি পুরোনো। এসব গাড়ি দিয়ে প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকায় টহল ও অন্যান্য কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে পুলিশকে।

প্রকল্প প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, একটি থানার অধীনে একাধিক ইউনিয়ন বা ওয়ার্ড থাকায় নিয়মিত টহল ও বিভিন্ন এলাকায় একসঙ্গে অভিযান চালাতে অন্তত চার থেকে পাঁচটি পিকআপ বা টহল গাড়ি প্রয়োজন। জনবহুল ও অপরাধপ্রবণ এলাকায় প্রয়োজন হতে পারে আরও বেশি গাড়ি।

কিন্তু অনেক থানায় মাত্র একটি বা দুটি গাড়ি থাকায় একটি অভিযানে পুলিশ সদস্যদের পাঠানোর পর অন্য এলাকায় তাৎক্ষণিক সাড়া দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

পুলিশের যানবাহন সংকট আরও তীব্র হয়েছে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় ক্ষয়ক্ষতির কারণে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় পুলিশের ১ হাজার ৭৪টি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে ৪৫৫টি পুরোপুরি পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

গত ৩০ মার্চ জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছিলেন, পুলিশের সক্ষমতা পুনরুদ্ধার এবং ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ির পরিবর্তে নতুন যানবাহন সরবরাহে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

তবে এবারের প্রকল্পের লক্ষ্য শুধু ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি প্রতিস্থাপন নয়; বরং পুলিশের সামগ্রিক পরিবহন সংকট দূর করা।

অপারেশনাল যানবাহনগুলো ব্যবহার করা হবে নিয়মিত টহল, অপরাধ ও মাদকবিরোধী অভিযান, গ্রেপ্তার এবং জরুরি পুলিশি সেবা প্রদানে। জাতীয় নির্বাচন ও বড় অনুষ্ঠানের সময় সারা দেশে একযোগে পুলিশি কার্যক্রম পরিচালনার জন্যও এসব গাড়ি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

অন্যদিকে, বিশেষায়িত যানবাহনের লক্ষ্য সংঘাত নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ তদন্ত এবং দুর্গম এলাকায় অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা বাড়ানো।

গাড়ি কেনার পাশাপাশি প্রশিক্ষণ, নিবন্ধন ও রক্ষণাবেক্ষণেও ব্যয় রাখা হয়েছে। অপারেশনাল যানবাহন প্রকল্পে নিবন্ধন বাবদ ৪৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, ড্রাইভিং ও মেকানিক্যাল প্রশিক্ষণ এবং ভেহিক্যাল মেকানিক প্রশিক্ষণে অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব রয়েছে। গাড়ি মেরামতের যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম কিনতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ কোটি টাকা। বিশেষায়িত যানবাহন প্রকল্পেও চালক ও মেকানিকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর প্রকল্প প্রস্তাব জমা দেওয়ার পর ১৫ অক্টোবর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি সেগুলো পর্যালোচনা করে শর্তসাপেক্ষে একনেকের জন্য সুপারিশ করেছে। সঠিক ব্যয় প্রাক্কলন, সরকারি ক্রয়বিধি অনুসরণ এবং পর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার শর্তও দেওয়া হয়েছে।

এখন প্রকল্প দুটির অনুমোদন ও বাস্তবায়নের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে পুলিশের যানবাহন সংকট কতটা কমে। তবে ৬ হাজার ৬০৯ কোটি টাকার এই উদ্যোগে গাড়ি কেনার পাশাপাশি স্বচ্ছ ক্রয়প্রক্রিয়া, যথাযথ ব্যবহার এবং দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি