প্যাকেজের নামে পকেট কাটছে বেসরকারি হাসপাতাল! (ভিডিও)
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক:

 

চোখে ছানি পড়েছে। দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন অস্ত্রোপচার। কিন্তু চিকিৎসা নিতে গিয়ে যদি জানতে পারেন, যে কৃত্রিম লেন্সের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য কয়েক হাজার টাকা, সেই লেন্স ব্যবহার করে অস্ত্রোপচারের প্যাকেজের খরচ লাখ টাকা ছাড়িয়ে গেছে, তাহলে কী করবেন? রাজধানীর কয়েকটি বেসরকারি চক্ষু হাসপাতালের বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, চোখের ছানি অস্ত্রোপচারের প্যাকেজে লেন্সের দাম আলাদা করে জানানো হচ্ছে না। রোগীকে দেওয়া হচ্ছে না লেন্সের মূল্য উল্লেখ করা ক্যাশমেমো, এমনকি অস্ত্রোপচারের পর ফেরত দেওয়া হচ্ছে না লেন্সের প্যাকেটও।

অথচ কৃত্রিম চোখের লেন্সের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, লেন্সের দাম প্যাকেজের বাইরে রাখতে হবে এবং রোগীকে লেন্সের মূল্যসহ ক্যাশমেমো দিতে হবে। তাহলে সরকারি নির্দেশনা থাকার পরও কেন লেন্সের দাম নিয়ে প্রশ্ন উঠছে? কোন লেন্সের বিপরীতে কত টাকার প্যাকেজ নিচ্ছে হাসপাতালগুলো? আর বাড়তি খরচের অভিযোগের বিষয়ে কী বলছে হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ? আজকের প্রতিবেদনে থাকছে চোখের ছানি অস্ত্রোপচারের প্যাকেজ, লেন্সের নির্ধারিত মূল্য এবং রোগীদের ভোগান্তির বিস্তারিত।

চোখের ছানি হলে চোখের স্বচ্ছ প্রাকৃতিক লেন্স ধীরে ধীরে ঘোলা হয়ে যায়। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেই লেন্স সরিয়ে কৃত্রিম লেন্স বসানো হয়, যাতে রোগী আবার স্পষ্ট দেখতে পারেন। এই অস্ত্রোপচারে ব্যবহৃত ইন্ট্রা-অকুলার লেন্সের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য বা এমআরপি নির্ধারণ করেছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের প্রকাশিত মূল্যতালিকা অনুযায়ী, এসব লেন্সের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১ লাখ ২৬ হাজার টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর অধিদপ্তরের তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল কাজী মো. রশীদ-উন-নবীর স্বাক্ষর করা বিজ্ঞপ্তিতে ৩০টি কোম্পানির ১৫৫ ধরনের কৃত্রিম চোখের লেন্সের দাম নির্ধারণ করা হয়। তালিকাভুক্ত লেন্সগুলোর উৎপাদনকারী দেশের মধ্যে রয়েছে থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, বেলজিয়াম, আয়ারল্যান্ড, স্পেন, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, বার্বাডোজ, নেপাল, হাঙ্গেরি ও গ্রিস।

শুধু দাম নির্ধারণ করেই দায়িত্ব শেষ করেনি অধিদপ্তর। লেন্সের নাম, সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য এবং উৎপাদনকারী দেশের নাম উল্লেখ করে রোগীকে ক্যাশমেমো দেওয়ার নির্দেশনাও রয়েছে। ফ্যাকো সার্জারির পর রোগীকে লেন্সের প্যাকেট সরবরাহ করতে হবে। সেই প্যাকেটে উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, উৎপাদনকারী দেশ ও সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য উল্লেখ থাকার কথা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাটি হলো, লেন্সের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য অস্ত্রোপচারের প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত রাখা যাবে না। কিন্তু রাজধানীর কয়েকটি বেসরকারি চক্ষু হাসপাতালে গিয়ে এসব নির্দেশনা বাস্তবে কতটা অনুসরণ করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

রাজধানীর ইস্পাহানি ইসলামিয়া চক্ষু ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, হারুন আই হাসপাতাল, এ্যারিস্ট আই হাসপাতাল, বাংলাদেশ আই হাসপাতাল, রেটিনা গ্লুকোমা সেন্টার ও গ্রিন আই হাসপাতালসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে প্যাকেজের খরচ, লেন্সের দাম না জানানো এবং লেন্সের প্যাকেট ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাসপাতালগুলোর নোটিশ বোর্ডেও লেন্সের মূল্যতালিকা প্রদর্শন করতে দেখা যায়নি। ফলে কোন লেন্সের দাম কত, তা জানার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এসব বেসরকারি হাসপাতালে প্যাকেজের বাইরে ছানি অস্ত্রোপচার করানোর সুযোগ নেই। হাসপাতালভেদে প্যাকেজের খরচ ৩৫ হাজার টাকা থেকে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত।

এর বাইরে চিকিৎসকের ফি ও বিভিন্ন পরীক্ষার জন্য আরও ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে বলে অভিযোগ রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই অতিরিক্ত খরচের পরিমাণ ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা বলেও জানা গেছে।

এবার দেখা যাক, প্রতিবেদনে উল্লেখ করা কয়েকটি লেন্সের নির্ধারিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য এবং সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে সেই লেন্স ব্যবহারের প্যাকেজের খরচ কত। প্রথমেই আসা যাক রাজধানীর এ্যারিস্ট আই হাসপাতালের কথায়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি অ্যাক্রিসফ আইকিউ টরিক লেন্স ব্যবহারের একটি প্যাকেজের খরচ ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। অথচ ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মূল্যতালিকায় এই লেন্সের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৪৪ হাজার ৭০০ টাকা। একই হাসপাতালে সিঙ্গাপুরে তৈরি আইসার্ট ইন্ট্রা-অকুলার লেন্সের মডেল ১৫০ ব্যবহারের প্যাকেজের খরচ ৭৫ হাজার টাকা। এই লেন্সের নির্ধারিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৭ হাজার ২০০ টাকা।

এবার দেখবো বাংলাদেশ আই হাসপাতালের চিত্র। রাজধানীর ধানমন্ডিতে অবস্থিত এই হাসপাতালে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি অ্যাক্রিসফ আইকিউ ভিভিটি টরিক এক্সটেন্ডেড ভিশন লেন্সের মডেল ডিএফটি ৫১৫ ও ডিএফটি ৬১৫-এর সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১ লাখ ৮ হাজার টাকা। প্রতিবেদনে অনুযায়ী, এই লেন্স ব্যবহারের প্যাকেজের খরচ ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

এর বাইরে চিকিৎসকের ফি ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আরও ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা দিতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, রেটিনা গ্লুকোমা সেন্টারে প্রিমিয়াম প্যাকেজের আওতায় প্যানঅপটিক্স ট্রাইফোকাল লেন্সের মডেল টিএফএনটি০০ ব্যবহারের খরচ ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। অধিদপ্তরের মূল্যতালিকায় এই লেন্সের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৮৬ হাজার টাকা।

এখন আসা যাক ইস্পাহানি ইসলামিয়া চক্ষু ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের তথ্যে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় এক্রিভুক হাইড্রোফোবিক অ্যাক্রিলিক ফোল্ডেবল ইন্ট্রা-অকুলার লেন্সের মডেল এলবিএইচএফ৩২ইউভিএএসপির সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ২ হাজার ৯৫০ টাকা। এই লেন্স ব্যবহারের প্যাকেজের খরচ ২৮ হাজার টাকা বলে জানা গেছে। এখানে মনে রাখতে হবে, উল্লিখিত প্যাকেজের মধ্যে অস্ত্রোপচার, ওষুধ ও অন্যান্য সেবার খরচও অন্তর্ভুক্ত থাকে। তাই লেন্সের এমআরপি ও প্যাকেজের মোট মূল্য এক বিষয় নয়। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই রোগীকে লেন্সের পৃথক মূল্য জানানো এবং বিল-ভাউচারে সেই মূল্য উল্লেখ করার সরকারি নির্দেশনা মানা হচ্ছে কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

সমস্যাটি শুধু প্যাকেজের অঙ্কে সীমাবদ্ধ নয়। রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের পর লেন্সের প্যাকেট ফেরত দেওয়া হচ্ছে না। বিল-ভাউচারেও লেন্সের পৃথক মূল্য উল্লেখ করা হচ্ছে না। ফলে অস্ত্রোপচারে ঠিক কোন লেন্স ব্যবহার করা হয়েছে, তার নির্ধারিত দাম কত এবং প্যাকেজের মধ্যে লেন্সের জন্য কত টাকা ধরা হয়েছে-এসব তথ্য যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ছে। অথচ লেন্সের প্যাকেট ও মূল্য উল্লেখ করা ক্যাশমেমো রোগীকে দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মূল্যতালিকা নোটিশ বোর্ডে প্রদর্শন না করায় রোগীরা অস্ত্রোপচারের আগে বিভিন্ন লেন্সের নির্ধারিত দাম সম্পর্কে জানতে পারছেন না। অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত প্যাকেজ থেকেই লেন্স নিতে হচ্ছে। এতে রোগীর পক্ষে চিকিৎসা ব্যয়ের স্বচ্ছ হিসাব পাওয়া এবং নির্ধারিত মূল্যের সঙ্গে নিজের খরচের তুলনা করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সাভার থেকে আসা এক রোগীর স্বজনের অভিজ্ঞতাও। গত বুধবার তিনি তার বাবার চোখের ছানি অস্ত্রোপচার করাতে ঢাকার ইস্পাহানি ইসলামিয়া চক্ষু ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে আসেন। ওই স্বজনের ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতীয় লেন্সসহ অস্ত্রোপচারের একটি প্যাকেজ নিতে তাদের খরচ হয়েছে ১৮ হাজার টাকা। এর বাইরে চিকিৎসক দেখানো এবং বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আরও ৭ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। অর্থাৎ, তার পরিবারের মোট খরচ হয়েছে ২৫ হাজার টাকা। কিন্তু ব্যবহৃত লেন্সটির প্রকৃত মূল্য কত, তা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের জানায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 অস্ত্রোপচারের পর লেন্সের প্যাকেটও ফেরত দেওয়া হয়নি। লেন্সের মূল্য ও প্যাকেট রোগীকে দেওয়ার বিষয়ে সরকারি নির্দেশনা রয়েছে, সে সম্পর্কেও তারা জানতেন না। এ ধরনের অভিজ্ঞতার কারণে রোগীদের মধ্যে চিকিৎসার প্রকৃত ব্যয় সম্পর্কে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন রোগীর স্বজন। তবে এই অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট রোগী ও স্বজনদের বক্তব্যের ভিত্তিতে উঠে এসেছে। পৃথকভাবে প্রতিটি অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

চোখের ছানি অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে সরকারি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে রোগীর চাপ বেশি। প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, সেখানে অস্ত্রোপচারের তারিখ পেতে দেড় থেকে দুই মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ফলে দ্রুত অস্ত্রোপচার প্রয়োজন এমন অনেক রোগীকে বেসরকারি হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। আর বেসরকারি হাসপাতালে প্যাকেজের খরচ বহন করতে গিয়ে তাদের বাড়তি আর্থিক চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

একদিকে সরকারি প্রতিষ্ঠানে অস্ত্রোপচারের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা, অন্যদিকে বেসরকারি হাসপাতালে প্যাকেজের ব্যয়-এই পরিস্থিতিতে রোগীদের জন্য চিকিৎসার খরচ সম্পর্কে আগাম ও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। লেন্সের নির্ধারিত মূল্য, অস্ত্রোপচারের খরচ, ওষুধ এবং চিকিৎসকের ফি আলাদা করে জানানো হলে রোগীরা তাদের ব্যয়ের হিসাব বুঝতে পারবেন। একই সঙ্গে সরকারি নির্দেশনা মানা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করাও সহজ হবে।

অভিযোগের বিষয়ে ইস্পাহানি ইসলামিয়া চক্ষু ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক, কমিউনিটি সার্ভিস, গাজী মো. নজরুল ইসলাম ফয়সাল জাতীয় অর্থনীতিকে বলেন, প্যাকেজের আওতায় অস্ত্রোপচার করালে রোগীদের কাছ থেকে বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছে না। তার বক্তব্য, লেন্স প্রতিস্থাপনের সময় লেন্সের পাশাপাশি বিভিন্ন ওষুধের প্রয়োজন হয়। রোগীরা এসব ওষুধ আলাদাভাবে কিনলে খরচ আরও বাড়তে পারে। প্যাকেজের আওতায় ওষুধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে একাধিক রোগীর জন্য কিছু ওষুধ ব্যবহার করা সম্ভব হওয়ায় অপচয় কমে। তবে লেন্সের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য প্যাকেজের বাইরে রাখার সরকারি নির্দেশনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অন্যদিকে, লেন্স আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান অ্যাকসেস মেডিকেল সার্ভিসের ডেপুটি ম্যানেজার হাকিমুল হোসাইন বলেন, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের নির্ধারিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের বাইরে তারা হাসপাতালগুলোর কাছ থেকে অতিরিক্ত দাম নেন না। বরং অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কম দামে লেন্স সরবরাহ করা হয়। অর্থাৎ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্যাকেজে অন্যান্য ওষুধ ও সেবার খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকার বিষয়টি তুলে ধরছে। আর আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বলছে, নির্ধারিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের বাইরে তারা অতিরিক্ত দাম নিচ্ছে না। কিন্তু রোগীর হাতে লেন্সের মূল্য উল্লেখ করা ক্যাশমেমো এবং অস্ত্রোপচারের পর লেন্সের প্যাকেট না পৌঁছানোর অভিযোগের বিষয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।

এ বিষয়ে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক ড. মো. আকতার হোসেন জাতীয় অর্থনীতিকে বলেন, হাসপাতালগুলোর কার্যক্রম স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন হলেও চোখের লেন্সের মূল্য ও ব্যবহারসংক্রান্ত নির্দেশনা মানার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তার বক্তব্য, অধিদপ্তরের নির্দেশনা হাসপাতালগুলোকে অবশ্যই মানতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক, ক্লিনিক ও হাসপাতাল, ডা. নূরুল ইসলাম বলেন, চোখের লেন্স প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হাসপাতালগুলোকে বলা হয়েছে। কোনো হাসপাতাল নির্দেশনা না মানলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক, অভিযোগ ও তদন্ত বিভাগ, মো. মাসুম আরেফিন বলেন, প্যাকেজের আওতায় চোখের লেন্সের জন্য বেশি টাকা নেওয়ার বিষয়ে তাদের কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৭৩ ধারায় বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবায় ত্রুটি-বিচ্যুতির অভিযোগ পেলে অধিদপ্তর তদন্ত করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরকে জানাতে পারে। তবে সরাসরি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা তাদের নেই। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হলে নির্দেশনা না মানার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

চোখের ছানি অস্ত্রোপচারের প্যাকেজের মধ্যে অস্ত্রোপচার, ওষুধ ও অন্যান্য সেবার খরচ থাকতে পারে। তাই শুধু লেন্সের নির্ধারিত দাম আর প্যাকেজের মোট খরচ তুলনা করে অতিরিক্ত আদায়ের চূড়ান্ত হিসাব করা যায় না। তবে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী লেন্সের মূল্য সম্পর্কে রোগীকে জানানো, মূল্য উল্লেখ করা ক্যাশমেমো দেওয়া এবং অস্ত্রোপচারের পর লেন্সের প্যাকেট সরবরাহ করার বিষয়গুলো নিশ্চিত করা প্রয়োজন। রোগীর চিকিৎসা ব্যয়ের স্বচ্ছতা এবং সরকারি নির্দেশনার বাস্তব প্রয়োগ-দুটিই এখানে গুরুত্বপূর্ণ। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও তদারকিতে অভিযোগগুলোর কতটা নিষ্পত্তি হয় এবং রোগীরা তাদের চিকিৎসার খরচ সম্পর্কে পরিষ্কার তথ্য পান কি না।  

—জা. অর্থনীতি/এলএটি