জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক:
আমেরিকায় যেতে কি আপনার বয়স পার হয়ে যাচ্ছে বলে চিন্তায় আছেন? বিশ্বাস করুন, আমেরিকার ইমিগ্রেশনে বয়স কোনো বড় বাঁধাই নয়! তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোন জিনিসটি না থাকলে আপনার ইমিগ্রেশনের স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে?
আমেরিকান ড্রিম বা যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের স্বপ্ন আমাদের অনেকেরই থাকে। কিন্তু একটা সাধারণ ভুল ধারণা অনেকের মনেই কাজ করে-বয়স বেড়ে গেলে নাকি আর আমেরিকায় যাওয়া যায় না। বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট বলছেন, আমেরিকান ইমিগ্রেশন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে বয়স অধিকাংশ সময় কোনো বাধাই নয়। বরং আপনি যদি শিক্ষিত ও অভিজ্ঞ হন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে আপনার যোগ্যতা ও আবেদনের পাল্লা আরও ভারী হয়।
তাহলে আমেরিকা যাওয়ার ক্ষেত্রে আসল এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কোনটা?
উত্তরটা খুব সহজ-সঠিক ইমিগ্রেশন পথ নির্বাচন, প্রমানভিত্তিক যোগ্যতা এবং নিখুঁত নথিপত্র। আমেরিকান ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা মূলত নির্ভর করে আপনার শিক্ষাগত ও পেশাগত ব্যাকগ্রাউন্ড, দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতার ওপর। মনে রাখবেন, গ্রিন কার্ড পাওয়ার জন্য প্রায় ২৭টি ভিন্ন ভিন্ন পথ রয়েছে। একজন চিকিৎসক, কৃষিবিজ্ঞানী, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী কিংবা ক্রীড়াবিদের পথ কিন্তু এক নয়। আপনার যোগ্যতা কোন ক্যাটাগরির সাথে মিলে যাচ্ছে, আবেদন করার আগেই সেই তথ্য ও জ্ঞানের অভাব দূর করা সবচেয়ে বেশি জরুরি।
দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিখুঁত ডকুমেন্টেশন বা কাগজপত্র। বাংলাদেশে নথিপত্রে নাম ও নামের বানানের ভুল একটি বড় সমস্যা। কোথাও পুরো নাম, কোথাও সংক্ষিপ্ত নাম, আবার জন্মতারিখ বা পারিবারিক তথ্যে গরমিল দেখা যায়। এই ভুল থাকলে তা না লুকিয়ে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রস্তুত রাখুন। প্রয়োজনে অতিরিক্ত সহায়ক কাগজপত্র জমা দিলে আবেদন মূল্যায়নে সুবিধা হয়।
ভিসা সাক্ষাৎকারের ক্ষেত্রেও দুশ্চিন্তার কিছু নেই। ইংরেজিতে নিখুঁত হতে হবে-এমন কোনো বাধ্যবাধকতা সব ক্যাটাগরিতে নেই। তবে যোগাযোগের দক্ষতা, পরিপাটি পোশাক, হাসিমুখ এবং নিজের নথিপত্র সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি।
শিক্ষার্থী হিসেবে যারা যেতে চান, তাদের মূল উদ্দেশ্য হতে হবে পড়াশোনা। শুধু রেস্টুরেন্ট বা গ্যাস স্টেশনে কাজ করার উদ্দেশ্যে স্টুডেন্ট ভিসা নিলে ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বিশেষ করে বায়োমেডিকেল, ফার্মাসিউটিক্যালস বা কৃষিবিজ্ঞানের মতো গবেষণাভিত্তিক বিষয়ে গেলে পরবর্তীতে স্পনসরশিপ ও স্থায়িত্বের বড় বড় দরজা খুলে যায়।
পাশাপাশি ব্যবসা ও বিনিয়োগের মাধ্যমেও এল-ওয়ান বা ইবি-ফাইভ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ভালো সুযোগ রয়েছে। তাই বয়সের দোহাই না দিয়ে সঠিক জ্ঞান অর্জন করুন, নথিপত্র গুছিয়ে রাখুন এবং কোনো ধরনের শর্টকাটের পেছনে না ছুটে বৈধ ও যোগ্যতার পথে এগিয়ে যান।
আমেরিকা যেতে বয়স নয়, যে বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
আমেরিকায় ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে বয়স নিয়ে দুশ্চিন্তা করছেন? সত্যিটা হলো, সঠিক যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা থাকলে বয়স বাড়লেও আপনার গ্রিন কার্ডের সম্ভাবনা কমে না, বরং বাড়ে! তবে আসল বাধাটা আসে ভুল নথিপত্র থেকে। আমাদের দেশে পাসপোর্ট, এনআইডি আর সনদে নামের বানানে যে ভুল থাকে, সেটাই ভিসা বাতিলের প্রধান কারণ হয়। তাই বয়স নিয়ে না ভেবে নিজের কাগজপত্র আজই গুছিয়ে ফেলুন। নাম বা তথ্যে গরমিল থাকলে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে সঠিক ব্যাখ্যা প্রস্তুত রাখুন। যোগ্যতাই আপনাকে আমেরিকায় নিয়ে যাবে!
বয়স নয় আমেরিকান ভিসার আসল চাবিকাঠি যোগ্যতার নিখুঁত প্রমাণ
আমেরিকায় যাওয়ার সবচেয়ে বড় রহস্য কী জানেন? গ্রিন কার্ডের প্রায় ২৭টি ভিন্ন পথ আছে, আর আপনার জন্য কোনটা সঠিক তা জানা! বয়স যাই হোক, সঠিক পথে আবেদন না করলে রিজেকশন নিশ্চিত। বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা যদি শুধু পার্ট-টাইম কাজের উদ্দেশ্যে না গিয়ে বায়োমেডিকেল বা কৃষিবিজ্ঞানের মতো বিজ্ঞানভিত্তিক বিষয়ে উচ্চশিক্ষায় যান, তবে পড়াশোনা শেষেই বৈধ কাজের সুযোগ ও স্পনসরশিপ মেলে। শর্টকাট বাদ দিন, নিজের দক্ষতা বাড়ান আর সঠিক পথ বেছে নিয়ে আমেরিকান ড্রিম পূরণ করুন!
—জা. অর্থনীতি/এলএটি