দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে যৌনাঙ্গে আঘাতের অভিযোগ আন্দোলনকারীদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দিল্লিতে বিক্ষোভ চলাকালে আটক আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর দাবি, পুলিশের মারধরে তার এক কানের শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার পাশাপাশি তলপেট ও যৌনাঙ্গে আঘাত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে এসব অভিযোগ সামনে এসেছে। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করছেন আন্দোলনকারীরা।

বুধবার লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী নির্যাতনের শিকার কয়েকজন আন্দোলনকারীকে সংবাদমাধ্যমের সামনে হাজির করেন। তাদের একজন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আথিরা। তিনি জানান, আটক করার পর তাদের যে বাসে তোলা হয়েছিল, সেখানে কোনো নারী পুলিশ সদস্য ছিলেন না। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর বাসটি কনট প্লেস থানার বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাঁকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ তার।

আথিরার ভাষ্য, তাকে একটি বেসমেন্টে নেওয়ার কথা বলা হয়, যেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা নেই বলে তাকে জানানো হয়েছিল। সেখানে তার ঠোঁট ও দুই গালে আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে তলপেট ও যৌনাঙ্গেও মারধর করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। এতে তার একটি চোখেও আঘাত লাগে এবং এক কানে শুনতে সমস্যা হচ্ছে।

ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়ার (এনএসইউআই) আরেক নারী কর্মীও আটকের সময় মারধর ও শারীরিক লাঞ্ছনার অভিযোগ করেছেন। এক পুরুষ আন্দোলনকারীর দাবি, আটক ব্যক্তিদের সংসদ ভবন থানায় নিয়ে ১৫ থেকে ২০ জন পুলিশ সদস্য মারধর করেন। তাদের একজনকে লাঠি দিয়ে পেটানো ও যৌনাঙ্গে লাথি মারা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

রাহুল গান্ধী বলেছেন, আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে দিল্লি পুলিশের বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

জা.অর্থনীতি/এসআই