বিগ ব্যাশে প্রত্যাবর্তন রিশাদের

ক্রীড়া প্রতিবেদক: এক লিগের সাফল্য যেন খুলে দিচ্ছে আরেক লিগের দরজা! বাংলাদেশের লেগস্পিনার রিশাদ হোসেনের ক্ষেত্রে সেটিই ঘটছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পাশাপাশি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটেও বাড়ছে তার চাহিদা। পাকিস্তান সুপার লিগে খেলার পর এবার দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ টোয়েন্টিতে সরাসরি চুক্তিতে দল পেয়েছেন তিনি। এরই মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশেও দ্বিতীয় মৌসুমের জন্য তাকে ধরে রেখেছে হোবার্ট হারিকেন্স।

ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে রিশাদের এই চাহিদার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে বিগ ব্যাশে তার গত মৌসুমের পারফরম্যান্স। প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার এই লিগে খেলতে নেমেই নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়েছিলেন তিনি। হোবার্ট হারিকেন্সের হয়ে ১২ ম্যাচে নিয়েছিলেন ১৫ উইকেট। ২০ দশমিক ৮৬ বোলিং গড়ের পাশাপাশি তার ইকোনমি রেট ছিল ৭ দশমিক ৮২। দলের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হওয়ার পাশাপাশি টুর্নামেন্টের স্পিনারদের মধ্যেও সবচেয়ে বেশি উইকেট নিয়েছিলেন বাংলাদেশের এই লেগস্পিনার। স্বীকৃতি হিসেবে মৌসুম শেষে হোবার্টের বর্ষসেরা বিবিএল খেলোয়াড় নির্বাচিত হন তিনি।

এমন পারফরম্যান্সের পর রিশাদকে নিয়ে আগ্রহ ধরে রেখেছে হোবার্ট। নতুন মৌসুমেও একই দলের হয়ে খেলবেন তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। এবার দলে অস্ট্রেলিয়ার তারকা লেগস্পিনার অ্যাডাম জাম্পাও রয়েছেন। দুজনকে একসঙ্গে পেয়ে বোলিং আক্রমণে নতুন কৌশল প্রয়োগের সুযোগ দেখছে হোবার্ট।

রিশাদকে ফেরানোর ক্ষেত্রে তার নিজের আগ্রহও গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে জানিয়েছেন হোবার্ট হারিকেন্সের হাই পারফরম্যান্স বিভাগের মহাব্যবস্থাপক সালিয়ান বিমস।

বিমস বলেছেন, ‘রিশাদ আমাদের কাছে পরিষ্কার করে জানিয়েছিল, গত মৌসুমে হোবার্টে তার সময়টা দারুণ কেটেছে এবং সে আবার ফিরতে চায়। বিষয়টি আমাদের কাছে অনেক গুরুত্ব বহন করেছে। অ্যাডাম জাম্পাকে যুক্ত করায় আমাদের দলের গঠন কিছুটা বদলে গিয়েছিল। কিন্তু রিশাদের মতো মানসম্পন্ন একজন খেলোয়াড় যখন হারিকেন্সে ফিরতে এতটা আগ্রহী, তখন তাকে ফিরিয়ে আনার সব সম্ভাবনাই আমরা খতিয়ে দেখতে চেয়েছি।’

প্রথমবার বিগ ব্যাশে খেলেই রিশাদ যেভাবে দলের সেরা বোলার হয়েছেন, সেটিও মুগ্ধ করেছে হোবার্ট কর্তৃপক্ষকে। বিমস বলেন, ‘গত মৌসুমে সে আমাদের জন্য অসাধারণ ছিল। প্রথমবার বিগ ব্যাশে খেলতে এসে প্রতিটি ম্যাচে অংশ নেওয়া এবং দলের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হিসেবে মৌসুম শেষ করা তার সামর্থ্য ও অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা প্রমাণ করে।’

এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ টোয়েন্টিতে সরাসরি চুক্তিতে রিশাদকে দলে নিয়েছে সানরাইজার্স ইস্টার্ন কেপ। পাকিস্তান সুপার লিগে খেলার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার। ফলে অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও পাকিস্তানের ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে খেলার সুযোগ তৈরি হয়েছে এই স্পিনারের সামনে। বিভিন্ন দেশের লিগে তার উপস্থিতি প্রমাণ করছে, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে কার্যকর লেগস্পিনার হিসেবে নিজের পরিচিতি গড়ে তুলছেন তিনি।

আগামী ১২ ডিসেম্বর শুরু হবে বিগ ব্যাশের ১৬তম আসর। ১৭ ডিসেম্বর ব্রিসবেন হিটের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলবে হোবার্ট হারিকেন্স। নতুন মৌসুমে রিশাদের সামনে তাই আবারও নিজেকে প্রমাণের সুযোগ। গতবারের সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করতে পারলে আন্তর্জাতিক ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে তার চাহিদা যে আরও বাড়বে, তা বলাই যায়।

হোবার্ট হারিকেন্স স্কোয়াড-

মার্কাস বিন, ইয়ান কার্লাইল, নিখিল চৌধুরী, টিম ডেভিড, নাথান এলিস, রিশাদ হোসেন, নিক হবসিন, শাই হোপ, বেন ম্যাকডারমট, রাইলি মেরেডিথ, মিচ ওয়েন, উইল প্রেস্টউইজ, বিলি স্ট্যানলেক, টিম ওয়ার্ড, জ্যাক ওয়েদারাল্ড, বিউ ওয়েবস্টার ও অ্যাডাম জাম্পা।