প্রযুক্তি ডেস্ক: শেয়ারবাজারে ৩২০ কোটি (৩ দশমিক ২ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার তোলার লক্ষ্যে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে মুকেশ আম্বানির ডিজিটাল প্রতিষ্ঠান ‘জিও প্ল্যাটফর্মস’। এটিকে ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আইপিও হতে যাচ্ছে বলে আশা করা হচ্ছে।
রেগুলেটরি বন্ড ফাইলিংয়ে দেওয়া এক বিবৃতিতে জিওর মূল প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ জানায়, তাদের আইপিও শেয়ারের জন্য শেয়ারপ্রতি ১ হাজার ৬৫ রুপি থেকে ১ হাজার ১১৯ রুপি (প্রায় ১১ দশমিক ১৯ ডলার থেকে ১১ দশমিক ৭৬ ডলার) শেয়ারের মূল্যসীমা বা প্রাইস ব্যান্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। এই অফারের আওতায় সর্বোচ্চ ২৭ কোটি নতুন সাধারণ শেয়ার বাজারে ছাড়া হবে। ভারতের পুঁজিবাজারে এই আইপিওর সাবস্ক্রিপশন শুরু হবে আগামী ২১ অক্টোবর, যা ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত চালু থাকবে। তবে প্রাতিষ্ঠানিক বা অ্যাঙ্কর বিনিয়োগকারীদের জন্য নিলামের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯ অক্টোবর।
যদি প্রতি শেয়ারের সর্বোচ্চ মূল্যসীমা (১ হাজার ১১৯ রুপি) অনুযায়ী লেনদেন শেষ হয়, তবে নতুন শেয়ার যোগ হওয়ার পর জিও প্ল্যাটফর্মসের মোট বাজারমূল্য দাঁড়াবে প্রায় ১০ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ভারতীয় রুপি (বা ১০ হাজার ৮৩০ কোটি মার্কিন ডলার)। ২০২০ সালে রিলায়েন্সের এই শাখাটি গুগল ও মেটার মতো বৈশ্বিক জায়ান্টদের কাছ থেকে ২ হাজার কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ পেয়েছিল, সে সময় প্রতিষ্ঠানটির আনুমানিক মূল্য ছিল ৬ হাজার ৫০০ কোটি ডলার।
বাজারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এর আগে ২০২৪ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হুন্দাইয়ের ভারতীয় শাখা ৩৩০ কোটি ডলার বা ২ হাজার ৭৮৭ কোটি রুপি বাজার থেকে তুলে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আইপিওর রেকর্ড গড়ায়। কিন্তু জিও তাদের প্রস্তাবিত শেয়ারের সর্বনিম্ন মূল্যসীমার ভিত্তিতেও লেনদেন শেষ করলে, সেটি ভারতের পুঁজিবাজারের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আইপিওর নতুন রেকর্ড গড়বে।
২০১৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরুর পর অত্যন্ত কম মূল্যে ভয়েস কল ও ডেটা সেবা দিয়ে ভারতের টেলিকম বাজারে ব্যাপক সাড়া ফেলে জিও। সাশ্রয়ী দামের ওপর ভর করে বর্তমানে ৫২ কোটি ৪০ লাখের বেশি গ্রাহক সুবিধা নিয়ে ভারতের বৃহত্তম টেলিকম নেটওয়ার্কে পরিণত হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এতে পেছনে পড়ে গেছে ভারতী এয়ারটেল ও ভোডাফোন আইডিয়ার মতো পুরোনো প্রতিযোগীরা। কেবল মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে পরবর্তী সময়ে হাই-স্পিড ব্রডব্যান্ড সংযোগ, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং বিভিন্ন ডিজিটাল সেবায় দ্রুত নিজেদের ব্যবসা সম্প্রসারণ করেছে জিও।
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য জমা দেওয়া আর্থিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে জিওর সার্বিক রাজস্ব আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১২ শতাংশ বেড়ে ৩ হাজার ৯১৭ কোটি রুপিতে (প্রায় ৪১০ কোটি ডলার) পৌঁছেছে। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফা ৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৭৬ কোটি রুপি বা প্রায় ৮১ কোটি ৬০ লাখ ডলারে।
শেয়ার বণ্টনের ক্ষেত্রে রিলায়েন্সের বর্তমান সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি রুপি (২৬ কোটি ৩০ লাখ ডলার) সমমূল্যের শেয়ার সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। এর পাশাপাশি নিজস্ব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আরও ৫০০ কোটি রুপির শেয়ার রাখা হয়েছে, যা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে শেয়ারপ্রতি ৫৪ রুপি ছাড়ে বা ডিসকাউন্টে কিনতে পারবেন।
বিবরণীতে জিও জানিয়েছে, আইপিও থেকে প্রাপ্ত তহবিলের সিংহভাগ অর্থ প্রায় ২৭ হাজার ৫০০ কোটি রুপি (২৯০ কোটি মার্কিন ডলার) ব্যবহার করা হবে টেলিকম সাবসিডিয়ারি ‘রিল্যায়েন্স জিও ইনফোকম’-এর বকেয়া ঋণ পরিশোধে। আর অবশিষ্ট অর্থ কোম্পানির অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন ও পরিচালনাগত জরুরি প্রয়োজনে ব্যয় করা হবে। ভারতের শেয়ারবাজারে জিওর এই বিশাল পদার্পণকে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের নজর টানার এক বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।