জাতীয় অর্থনীতি প্রতিবেদক: ঢাকার আশুলিয়ায় গার্মেন্টসকর্মী বিথী আক্তার (২২) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের কথা জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ দুই মাস পর নিহতের স্বামী মো. মজনু রাজাকে (৩৯) চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারের পর তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর উত্তরা পিবিআই ঢাকা জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ।
পুলিশ সুপার এম, এন, মোর্শেদ বলেন, গত ১৩ আগস্ট সকালে আশুলিয়ার জামগড়া রূপায়ন মাঠ সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসা থেকে বিথী আক্তারের গলায় গামছা পেঁচানো মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের পিতা মো. বাদশা মিয়া বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং-৭৭) দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকেই ঘাতক স্বামী মজনু রাজা পলাতক ছিলেন। পরবর্তীতে পিবিআই স্ব-উদ্যোগে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে।
পিবিআই পুলিশ সুপার আরও জানান, পিবিআইয়ের একটি চৌকস দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রংপুর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে। গত ৬ অক্টোবর রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট থানার সীমান্ত এলাকা থেকে অবৈধভাবে ভারতে পালানোর চেষ্টাকালে মজনু রাজাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও আসামির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, চার বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। মজনু রাজা স্ত্রীর কর্মস্থলের সহকর্মীদের সাথে মেলামেশা ও মোবাইলে কথা বলা নিয়ে প্রতিনিয়ত সন্দেহ করতেন। গত ১২ আগস্ট রাতে স্ত্রীর সাথে এ নিয়ে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে মজনু উত্তেজিত হয়ে বিথীকে ধাক্কা দিয়ে খাটের ওপর ফেলে দেন এবং গামছা দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পালিয়ে যান।
পিবিআই'র উর্ধতন এই কর্মকর্তা আরও জানান, ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং মামলাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
—জা. অর্থনীতি/এএইচএ