স্কুলে শিক্ষক-শিক্ষিকার সম্পর্ক, শিক্ষকের বাইক ভেঙে দিল ছাত্ররা
ছবি: এআই জেনারেট

জাতীয় অর্থনীতি আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সহকর্মী শিক্ষিকার সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার জেরে এক শিক্ষককে কেন্দ্র করে বিদ্যালয় চত্বরে চরম হট্টগোল ও তাণ্ডব চালিয়েছে শিক্ষার্থীরা। ওই শিক্ষকের কারণে প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও সুনামে দাগ লাগছে- এমন মারাত্মক অভিযোগ তুলে তার অবিলম্বে অপসারণ ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে শিক্ষার্থীদের একাংশ। ঘটনার একপর্যায়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি চরম রূপ নিলে ওই শিক্ষকের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নয়ারহাট এলাকার পানিগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ সামনে আসে। ওই প্রতিষ্ঠানেরই এক শিক্ষিকার সঙ্গে তার অনৈতিক ও অসৌজন্যমূলক সম্পর্কের খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রতিষ্ঠানের এমন কুরুচিপূর্ণ খবর ছড়িয়ে পড়ায় তারা চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ছে। বাইরে নিজেদের পরিচয় দিতে গিয়ে লজ্জিত হতে হচ্ছে। এই ক্ষোভ থেকেই শিক্ষকের অপসারণ চেয়ে সকাল থেকেই চত্বর ঘিরে ধরে স্লোগান দিতে শুরু করে ছাত্র-ছাত্রীরা।

দশম ও একাদশ শ্রেণির একাধিক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ব্যাপকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে। আগে যেখানে তারা গর্ব করে নিজেদের শিক্ষায়তনের কথা বলত, এখন সেখানে সাধারণ মানুষের প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের স্পষ্ট বক্তব্য- ওই বিতর্কিত শিক্ষক পদে বহাল থাকলে তারা আর শ্রেণিকক্ষে ফিরে যাবে না। তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কঠোর দাবি জানায় তারা।

বিক্ষোভের একপর্যায়ে শিক্ষক যে মোটরসাইকেলে করে ক্যাম্পাসে এসেছিলেন, সেটিকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে ওই শিক্ষককে নিরাপদে উদ্ধার করে সরিয়ে নিয়ে যায়। পুলিশ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে আপাতত পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও ক্যাম্পাসে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত শিক্ষক। তার বক্তব্য, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একটি মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভুল বুঝিয়ে উসকে দেওয়া হয়েছে। তিনি বা ওই শিক্ষিকা কোনো অনৈতিক কাজের সঙ্গে জড়িত নন এবং শিক্ষার্থীদের এই অভিযোগের পেছনে কোনো সত্যতা নেই।