জিনের আতঙ্কে বন্ধ কারখানা, নেপথ্যে অন্য গল্প!
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: একজন নারী শ্রমিক বাথরুমে গেলেন। কিছুক্ষণ পর অসুস্থ হয়ে পড়লেন তিনি। এরপরই ছড়িয়ে পড়ল গুজব; বাথরুমে ভূত!একজন, দুজন করে অসুস্থ হতে থাকলেন আরও অনেকে। কেউ মাথা ঘোরার কথা বলছেন, কেউ চোখে ঝাপসা দেখছেন। আতঙ্কে বন্ধ হয়ে গেল কারখানার উৎপাদন। এমন ঘটনা কি কেবল গুজব? নাকি এর পেছনে রয়েছে মানুষের শরীর ও মনের জটিল সম্পর্ক?

আতঙ্কের বাস্তব চিত্র

বাংলাদেশের পোশাক কারখানায় এমন ঘটনা নতুন নয়। গত বছরের মার্চে গাজীপুরের একটি কারখানায় জিন আতঙ্কে অসুস্থ হন প্রায় ৫০ শ্রমিক। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দিনাজপুরে একই ধরনের ঘটনায় হাসপাতালে ভর্তি হন ৯ জন। জুলাইয়ে টঙ্গীর একটি কারখানায় অসুস্থ হয়ে পড়েন প্রায় ৬০ শ্রমিক।

আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে দুদিন বন্ধ থাকে কারখানাটি। তবে, সবচেয়ে বেশি শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে।

আশুলিয়ার ঘটনা: গুজব থেকে চিকিৎসা

প্রথমে বাথরুমে অসুস্থ হয়ে পড়েন দুই নারী শ্রমিক। এরপর ছড়িয়ে পড়ে জিন আতঙ্ক। কর্তৃপক্ষ আয়োজন করে মিলাদের। পরে আনা হয় তান্ত্রিক, করা হয় ঝাড়ফুঁকও।

কিন্তু, আতঙ্ক থামেনি সেখানেও। সব মিলিয়ে দুর্বলতা, চোখে ঝাপসা দেখা ও মাথা ঘোরার মতো উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন ১৭২ শ্রমিক। কয়েক দিন ছুটিতে রাখা হয় শ্রমিকদের। কারখানা বন্ধ থাকে দুদিন। এই অসুস্থতার পেছনে কি সত্যিই অতিপ্রাকৃত কোনো কারণ ছিল? এই প্রশ্নই এখন সবার মনে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ব্যাখ্যা

চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, বিষয়টি বুঝতে হলে নজর দিতে হবে মানসিক চাপ ও শারীরিক উপসর্গের দিকে। চিকিৎসকদের মতে, মানসিক চাপ এবং পারিবারিক ও সামাজিক দ্বন্দ্বের কারণে হতে পারে কনভারশন ডিজঅর্ডার।

আর একজনের উপসর্গ যখন অন্যদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে, সেটিকে বলা হয় মাস সাইকোজেনিক ইলনেস বা গণমনস্তাত্ত্বিক অসুস্থতা।

তবে, সব অসুস্থতাকে মানসিক চাপের ফল ধরে নেওয়াও ঠিক নয়। আশুলিয়ার ঘটনায় প্রথম দুজন শ্রমিকের একজনের রক্তে সুগারের মাত্রা অনেক বেশি ছিল। অন্যজন, আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন।

তাই ভূতের গুজব নয়, প্রথমে প্রয়োজন সঠিক চিকিৎসা, কারণ অনুসন্ধান ও শ্রমিকদের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন।

 

—জা. অর্থনীতি/এলএটি