ঝিঙেদার ভাষা

টোকন ঠাকুর:

‘ও বু, কিরোম আছির?’

‘আমি আর কিরোম থাকপো রে বু? তোর দুলোভাই আমারে একলা রাইখে কনে যা’য়ে ম’লো— কেউ তো কতি পা’ত্তেছে না! বাঁশবাগানের পতের দিকি চা’য়ে চা’য়ে আমার আর কদ্দিন যায়? আমি যে ক্যাম্বা বাইচে আচি— তা আমার আল্লা জানে আর আমি জানি! মাজেমদ্যি আমার মনের মদ্যি কী যে মনে হয়, তা তো আর অন্য কারও কাচে কতি পারিনে। আমি খালি নিজি নিজি ট্যার পাই, আমার যেন কিচুমিচু হয়ে যাচ্ছে। কী করব রে বু, হাউমাউ করে কান্দা আসে। কিন্তুক কানতিউ তো পারিনে, কানলি মানষি কবিনি, ওরে, জামালের বউ এম্বা কান্দে ক্যা? ভূতি ধ’ল্লো নাকি? আমার কতা বাদ দে, তোর কতা ক। এই দুফোর বেলায় তুই কী জন্যি আলি?’

‘আমার নতুন বর তো আজ নাত্যিই আসার কতা। কিন্তু বেলা যে আজকে আর যাতিই চাচ্চে না। আমি যে কিরোম আচি তা আমি নিজির মুকি নিজি কবো ক্যাম্বা?’

সকালেত্তেই মনডার মদ্যি কিরোম যে ঠেকতেচে— ক তো রে বু, সবাই তো জানতেছে যে, মিজ্জাপুরির ওই বর বিটাডা আজ আমারে বাড়িতি আসপিনি, সারানাত আমারে নিয়ে কুনার ঘড্ডায় দজ্জায় খিল আটাকায়ে দিয়ে শুবিনি, তবু মিজ্জাপুরির বিটাডারে কেউ কিচু কবিনানে। আর কয়দিন আগে উত্তরপাড়ার ফজলু আইসে আমার ঘরের জাল্লার ধারে দাঁড়ায়ে ছিল বলে কত কতা! সবাই কোলো, ফজলুর হাবভাব ভালো না। তালি মিজ্জাপুরির বিটাডার চরিত্র ভালো? বিয়ে কল্লি মানষির চরিত্র ভালো থাহে? গেলাম রে বু, বাড়ি যাইগে।’
‘একনি যাবি ক্যা? সন্দে হতি তো আরো দেরি আচে। আর ইট্টু থাকপিনে?’

‘না যাই। নাত্যিরি যে আ’সতেছে তার জন্যি মনডার মদ্যি কিরোম কিরোম যেন খই খই কত্তেছে। খালি মনে হচ্চে, ওই বিটাডা এট্টা প্যাটে খিদে লাগা সাঁওতাল, তা না হলি আমার নিজিরি এত খরগোশ খরগোশ মনে হয় ক্যা?’