অনলাইন ডেস্ক: কৈশোরে শারীরিক ও মানসিক নানা পরিবর্তনের কারণে কিশোর-কিশোরীদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত অপরিহার্য। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘ন্যাশনাল স্লিপ ফাউন্ডেশন’-এর তথ্য অনুযায়ী, ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকতে প্রতিদিন অন্তত আট থেকে দশ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুমের প্রয়োজন। চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, জীবনের এই সংবেদনশীল সময়টিতে মানবদেহের সামগ্রিক গঠন এবং মস্তিষ্কের স্নায়বিক বিকাশ সবচেয়ে দ্রুতগতিতে ঘটে থাকে; ফলে এই বিকাশপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে শরীর ও মস্তিষ্কের বাড়তি বিশ্রামের দরকার হয়।
পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব এই বয়সিদের প্রাত্যহিক কাজকর্ম এবং মানসিক আচরণের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। চিকিৎসকেরা সতর্ক করেছেন যে, নিয়মিত ঘুম কম হলে কিশোর-কিশোরীদের শারীরিক শক্তি হ্রাস পায় এবং তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ছন্দ নষ্ট হয়ে যায়। এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে তাদের শিক্ষা কার্যক্রমে; পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাবে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় যথাযথ মনোযোগ ধরে রাখতে পারে না এবং দীর্ঘমেয়াদে তাদের মেধা বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।
অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় কিশোর-কিশোরীরা রাতে স্বাভাবিকের চেয়ে দেরিতে ঘুমাতে যায়, যার পেছনে একটি স্পষ্ট বৈজ্ঞানিক কারণ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় উঠে এসেছে যে, কৈশোরে মানবদেহে প্রাকৃতিক ঘুমের জন্য দায়ী ‘মেলাটোনিন’ নামের হরমোনটি প্রাকৃতিকভাবে কিছুটা দেরিতে সক্রিয় হতে শুরু করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় এই শারীরিক পরিবর্তনকে বলা হয় ‘ডিলেইড স্লিপ ফেজ’। শরীরের অভ্যন্তরীণ এই হরমোনজনিত বিলম্বের কারণেই স্বাভাবিকভাবেই কিশোর বয়সে রাতে দ্রুত ঘুম আসতে চায় না।
গবেষকদের মতে, কিশোর-কিশোরীদের জন্য ঘুম মানে কেবল একবেলার শারীরিক বিশ্রাম নয়, বরং এটি তাদের মানসিক স্থিতি এবং দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক বিকাশের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন নিশ্চিত করতে কিশোরদের এই বিশেষ জৈবিক চাহিদার প্রতি পরিবার ও সমাজকে আরও বেশি সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কিশোর বয়সে পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুমের অভ্যাস গড়ে তোলা সম্ভব হলে তা তাদের ভবিষ্যৎ শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখতে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
জেএ/অভি