কুমিল্লা ও লক্ষ্মীপুরে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৬৮১
ফাইল ছবি

জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: কিশোর গ্যাংবিরোধী পৃথক অভিযানে কুমিল্লা ও লক্ষ্মীপুরে একদিনে ৬৮১ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

কুমিল্লা প্রতিনিধির দেওয়া রির্পোট:

কুমিল্লার ১৮টি থানায় একযোগে অভিযান চালিয়ে ৪১৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। 

পুলিশ জানায়, কুমিল্লা মহানগরীর বিভিন্ন স্থান এবং জেলার প্রতিটি থানা এলাকার এমন স্থানগুলোতে অভিযান চালানো হয়, যেখানে কিশোর বয়সী বখাটেদের উৎপাতের অভিযোগ রয়েছে। অভিযানে মোট ৪১৫ জনকে আটক করা হয়েছে। আটকদের অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধিরি রিপোর্ট:

লক্ষ্মীপুরে কিশোর গ্যাং ও বখাটেদের উৎপাত রোধে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ২৬৬ জনকে আটক করেছে জেলা পুলিশ। গতকাল এই অভিযানের পর প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে তাদের মধ্যে ২১৫ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি ৫১ জনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়ে আদালতে সোপর্দ ও মোবাইল কোর্টে সাজা দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রায়পুর ও কমলনগর থানায় সর্বোচ্চ ৫৬ জন করে আটক হন। রায়পুরে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৫১ জনকে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয় এবং ৫ জনকে আদালতে পাঠানো হয়। কমলনগর থানায় ৪৯ জনকে অভিভাবকের জিম্মায় এবং ৭ জনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

এদিকে রামগতি থানায় আটক ৫৩ জনের মধ্যে ২৯ জনকে অভিভাবকের জিম্মায় ছাড়া হয়, ১০ জনকে মোবাইল কোর্টে সাজা দেওয়া হয় এবং ১৪ জনকে সোপর্দ করা হয় বিজ্ঞ আদালতে। অন্য থানাগুলোর মধ্যে সদর থানায় ৪২ জন আটক হন, যার মধ্যে ৩৮ জন অভিভাবকের জিম্মায় এবং ৪ জন আদালতে সোপর্দ হন।

রামগঞ্জ থানায় আটক ৩৮ জনের মধ্যে ৩০ জন জিম্মায় ছাড়া পান ও ৮ জনকে আদালতে পাঠানো হয়। আর চন্দ্রগঞ্জ থানায় ২১ জন আটকের মধ্যে ১৮ জনকে জিম্মায় ও ৩ জনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

গতকাল সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত টানা ৫ ঘণ্টার এই অভিযানে জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক-এর নির্দেশে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মো. রায়হান কাজেমী-র সার্বিক তত্ত্বাবধানে পুলিশের একাধিক দল একযোগে মাঠপর্যায়ে কাজ করে।

অভিযানের বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মো. রায়হান কাজেমী জানান, যেসব কিশোর অপরাধে জড়িত নয় বা সামান্য বখাটেপনার কারণে আড্ডায় ছিল, তাদের সংশোধনের সুযোগ দিতে অভিভাবকদের ডেকে সতর্কবার্তা ও মুচলেকা নিয়ে জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে সরাসরি অপরাধে সম্পৃক্তদের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

 —জা. অর্থনীতি/এনজে