জাতীয় অর্থনীতি সারাবাংলা: গাজীপুরের শ্রীপুরে পারিবারিক কলহের জেরে সীমা রানী দাস (২৫) নামে চার মাসের এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত স্বামী উদ্ভব দাস নিজেই জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে হত্যার বিষয়টি জানান।
রবিবার (১১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নের চিনাশুকানিয়া গ্রামের বড়চালা এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। আটক উদ্ভব দাস ওই গ্রামের নকুল দাসের ছেলে।
পরবর্তীতে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘাতক স্বামীকে আটক করে এবং ঘর থেকে রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য ও কথা কাটাকাটি চলছিল। ঘটনার রাতেও তাদের মধ্যে তীব্র ঝগড়ার একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে উদ্ভব দাস ধারালো অস্ত্র দিয়ে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সীমা রানীকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে।
হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করার পরপরই অভিযুক্ত স্বামী নিজ থেকে ৯৯৯-এ কল দিয়ে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা-পুলিশের একটি বিশেষ টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত উদ্ভব দাসকে হাতেনাতে আটক করে এবং নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, নিহত নারীর মাথা, গলাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের গুরুতর ক্ষত রয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরও জানান, আটক স্বামীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি