এশিয়ান গেমস কাবাডি দলের পদক জয়ের আশা অনিশ্চয়তায় পড়ার দিনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের শিবিরে এলো এক অভাবনীয় স্বস্তির বার্তা। নাগোয়ার টোকাই ডরি ইনডোর স্টেডিয়ামে জাপানের কাছে হেরে কাবাডি দলের পদক যখন অনিশ্চিত, তখনই খবর আসে উশু থেকে নিশ্চিত হয়েছে ব্রোঞ্জ। নারী ৫২ কেজি ওজন শ্রেণিতে কোনো ম্যাচে সরাসরি লড়াই না করেই সেমিফাইনালে উঠে পদক নিশ্চিত করেছেন অ্যাথলেট জিন্নাত আক্তার। এর মধ্য দিয়ে এশিয়ান গেমসে দীর্ঘ চার দশক (৪০ বছর) পর ব্যক্তিগত কোনো ইভেন্টে পদকের দেখা পেল বাংলাদেশ।
নারী ৫২ কেজি ওজন শ্রেণিতে মোট ১৫ জন অ্যাথলেট নকআউট পদ্ধতিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিযোগী জিন্নাত ড্র অনুযায়ী প্রথম রাউন্ডে (প্রি-কোয়ার্টার) ‘বাই’ পেয়ে সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে যান। সেখানে তার মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেন্তিনা থারিসার, যিনি ফিলিপাইনের কিলাপোকে হারিয়ে কোয়ার্টারে এসেছিলেন। তবে গতকাল ওজন মাপার নির্ধারিত সময়ে অতিরিক্ত ওজন (ওভার ওয়েট) ধরা পড়ায় ফ্লোরেন্তিনা ডিসকোয়ালিফাইড বা অযোগ্য ঘোষিত হন। ফলে রিংয়ে না নেমেই ওয়াকওভার পেয়ে সরাসরি সেমিফাইনালে পৌঁছে যান জিন্নাত।
উশু, টেবিল টেনিস ও ব্যাডমিন্টনের নিয়ম অনুযায়ী সেমিফাইনালে পরাজিত দুজন অ্যাথলেটকেই ব্রোঞ্জ পদক দেওয়া হয়। ২০২৫ সালে ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে কম প্রতিযোগী থাকায় আলাদা ম্যাচ খেলতে হয়েছিল, যা নিয়ে কিছু সংশয় জাগলেও উশু অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও কোচ দিলদার হাসান দিলু স্পষ্ট করেন যে, প্রতিযোগীর সংখ্যা ৬ জনের কম হলে তবেই প্লে-অফ ম্যাচ হয়। এখানে ১৫ জন প্রতিযোগী থাকায় সেমিফাইনালে ওঠায় ব্রোঞ্জ সম্পূর্ণ নিশ্চিত। দলের শেফ দ্য মিশন মেজর ইমরোজ আহমেদও পদক নিশ্চিতের বিষয়টি রিকনফার্ম করেছেন।
১৯৭৮ সালে এশিয়ান গেমসে অভিষেকের পর ১৯৮৬ সালে সিউল এশিয়ান গেমসে বক্সার মোশাররফ প্রথম ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন। সেটিই ছিল গেমসে বাংলাদেশের একমাত্র ব্যক্তিগত পদক। পরবর্তীকালে ক্রিকেট ও কাবাডিতে পদক এলেও তা ছিল দলীয় ইভেন্টের। দীর্ঘ চার দশক পর কোনো ম্যাচে লড়াই না করলেও জিন্নাত আক্তারের মাধ্যমে লাল-সবুজ পতাকা আবার এশিয়ান গেমসের ব্যক্তিগত ইভেন্টের পদকমঞ্চে উঠছে।