নিকলী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের নিকলীতে ঘোড়াউত্রা নদীতে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা চলাকালে পানিতে পড়ে নিখোঁজ হওয়া মাঝি মো. কফিল উদ্দিনের (৪৫) মরদেহ দীর্ঘ ৩৮ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে ঘোড়াউত্রা নদীর চন্তিঘাট এলাকায় পানিতে মরদেহ ভেসে উঠতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থল থেকে নিখোঁজ মাঝির মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে।
নিহত কফিল উদ্দিন কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার গুরুই ইউনিয়নের বাঘবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা ও তিন সন্তানের জনক ছিলেন। তিনি ঐতিহ্যবাহী এ বাইচে অংশ নেওয়া একটি দৌড়ের নৌকার অন্যতম মাঝি ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে ঘোড়াউত্রা নদীতে ১৭ বছর পর আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচের প্রথম পর্বের প্রতিযোগিতা চলছিল। বাইচ চলাকালে আকস্মিকভাবে নৌকা থেকে নদীতে ছিটকে পড়ে পানির প্রবল স্রোতে তলিয়ে যান কফিল উদ্দিন। খবর পাওয়ার পরপরই নিকলী ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল এবং পরবর্তীতে স্থানীয় একটি বেসরকারি ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে নদীতে তীব্র স্রোত ও গভীরতার কারণে ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরি দল প্রথম দিকে তার কোনো সন্ধান পায়নি।
অবশেষে টানা ৩৮ ঘণ্টা নিখোঁজ থাকার পর রোববার সকালে চন্তিঘাট এলাকায় তার ভাসমান মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা নদী থেকে মরদেহ উদ্ধার করেন।
মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ জানায়, আইনি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে সকালে স্বজনদের কাছে লাশ বুঝিয়ে দেওয়া হয়। রোববার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে গুরুই উত্তরপাড়া বাইতুল আমান জামে মসজিদের সামনে নিহত কফিল উদ্দিনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় শিক্ষক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
দীর্ঘ ১৭ বছর বিরতির পর নিকলীতে ঘটা করে আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী এই নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে পুরো উপজেলায় আনন্দ-উৎসব ও উৎসুক মানুষের ঢল নেমেছিল। কিন্তু মাঝি কফিল উদ্দিনের এভাবে সলিল সমাধি ও মৃত্যুতে সেই আনন্দ-উৎসব মুহূর্তে গভীর শোক ও বিষাদে পরিণত হয়েছে।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি
