তাড়াইলে তীব্র এলপিজির সংকট, বাড়তি দামেও মিলছে না সিলিন্ডার
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

তাড়াইল (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার বাজারগুলোতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নির্ধারিত দামে বাজারে মিলছে না ১২ কেজির গ্যাসের বোতল। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসাবাড়ির গ্রাহক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতারা।

অনুমোদিত মূল্যের চেয়ে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা অতিরিক্ত গুণেও অনেক জায়গায় সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। সিলিন্ডার সংকটের কারণে বাজারে এক কোম্পানির খালি সিলিন্ডার দিয়ে অন্য কোম্পানির পূর্ণ সিলিন্ডার পরিবর্তনের যে সুযোগ এতদিন চালু ছিল, সরবরাহ কমে যাওয়ায় সেটিও এখন বন্ধ হয়ে গেছে।

তাড়াইল সদর বাজারে ভাড়া বাসায় থাকেন এনজিওকর্মী সূচনা রাণী ঘোষ। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, "তাড়াইল বাজারের দোকানে দোকানে ঘুরেও রান্নাবান্নার জন্য এলপিজির বোতল পাচ্ছি না। গ্যাস না থাকায় রান্না বন্ধের উপক্রম হয়েছে।" সূচনা রানীর মতো তাড়াইলের অসংখ্য ভাড়াটিয়া পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দা একই ধরনের চরম বিপাকে পড়েছেন। লাকড়ির চুলা বা বিকল্প রান্নার সুযোগ না থাকায় চাকরিজীবী ও খেটে খাওয়া মানুষ বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত খরচে হোটেল থেকে খাবার কিনে দিন পার করছেন। ফলে হোটেল-রেস্তোরাঁ ও চায়ের দোকানগুলোতেও চাপ বাড়ছে।

সরবরাহ সংকটের বিষয়ে তাড়াইল সদর বাজারের বসুন্ধরা এলপি গ্যাস লিমিটেডের এক্সক্লুসিভ ডিস্ট্রিবিউটর মেসার্স তুহিন এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার আব্দুল আহাদ জানান, "সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ থাকায় আমরা খুচরা বিক্রেতা ও গ্রাহকদের এলপিজি দিতে পারছি না। এটি কেবল তাড়াইলের সমস্যা নয়, সারা দেশেই বসুন্ধরাসহ অন্যান্য এলপিজি সরবরাহ ব্যবস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।"

তিনি আরও জানান, জাতীয় পর্যায়ে বসুন্ধরা এলপিজির আমদানি আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে যেখানে তাদের আমদানি ছিল ১ লাখ ৪৭ হাজার ৯২৮ টন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা নেমে এসেছে মাত্র ১০ হাজার ২৭ টনে—যা পূর্বের তুলনায় প্রায় ৯৩ শতাংশ কম।

উল্লেখ্য, গত ২ নভেম্বর বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণ করে। কিন্তু মাঠপর্যায়ে সেই দামে গ্যাস মিলছে না বললেই চলে।

তাড়াইলের সাধারণ ভোক্তাদের দাবি, গ্যাসের নির্ধারিত দাম কেবল কাগজ-কলমে সীমাবদ্ধ না রেখে দ্রুত বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক করার কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দাম আদায়কারী অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি