নিখোঁজের দুই দিন পর ডোবা থেকে স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে বাড়ি থেকে নিখোঁজের দুই দিন পর ইসরাত জাহান যুথী (১৬) নামের এক স্কুলছাত্রীর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্বজনদের অভিযোগ, কিশোরীকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করে মরদেহ ডোবায় ফেলে রাখা হয়েছে। মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। 

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে উপজেলার মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ ঘটকের আন্দুয়া গ্রামে নিজ বাড়ির কাছের একটি ডোবা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত ইসরাত জাহান যুথী ওই গ্রামের জামাল হাওলাদারের মেয়ে। সে সুবিদখালী সরকারি রহমান ইসহাক পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে প্রতিদিনের মতো স্কুলের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয় যুথী। কিন্তু ছুটির পর বিকেল গড়িয়ে গেলেও সে বাড়ি না ফেরায় স্বজনেরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কোনো সন্ধান না পেয়ে ওই দিনই মির্জাগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে নিহতের পরিবার।

পরবর্তীতে দুই দিন ধরে স্বজন ও পুলিশ সম্ভাব্য স্থানে খোঁজাখুঁজি চালিয়েও তার কোনো সন্ধান পায়নি। বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে সড়কের পাশে একজোড়া জুতা দেখতে পান স্বজনেরা। সেই জুতার সূত্র ধরে আশপাশে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে পাশের একটি ধানখেতসংলগ্ন ডোবায় যুথীর মরদেহ ভেসে থাকতে দেখেন তার বাবা।

নিহতের পরিবারের দাবি, উদ্ধারের সময় মরদেহের পরনের পোশাক এলোমেলো অবস্থায় ছিল। তাদের জোরালো সন্দেহ, তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে ডোবায় ফেলে রাখা হয়েছে। এই পৈশাচিক ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

ওসি জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। নিহতের পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ ও নেপথ্য রহস্য উন্মোচিত হবে।  

—জা. অর্থনীতি/এলএটি