চোর সন্দেহে ছয় ঘণ্টা খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন, মৃত্যুর আগে পানি চেয়েছিলেন ফয়সাল
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

কক্সবাজার প্রতিনিধি: কক্সবাজারের মহেশখালীতে চুরির অপবাদে এক যুবককে টানা প্রায় ছয় ঘণ্টা প্রকাশ্য জনসম্মুখে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বারবার একটু পানির জন্য আকুতি জানালেও মেলেনি এক ফোটা পানি, কিংবা তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি কোনো প্রত্যক্ষদর্শী। মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুস সোলতান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। 

সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মহেশখালী উপজেলার বড়মহেশখালী ইউনিয়নের নতুনবাজারের পশ্চিমে প্রধান সড়কের পাশে ঘটনাটি ঘটেছে। 

নিহত যুবকের নাম ফয়সাল (২৮)। তিনি বড়মহেশখালী ইউনিয়নের পূর্ব ফকিরাঘোনা গ্রামের নুরুল আলম প্রকাশ বাদশা মেস্ত্রীর ছেলে। নিহত ফয়সালের চার বছরের একটি সন্তান রয়েছে এবং তার স্ত্রী বর্তমানে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

বড়মহেশখালী ইউনিয়ন পরিষদের দফাদার ও চকিদারেরা খবর পেয়ে রক্তাক্ত ও মুমূর্ষু অবস্থায় ফয়সালকে খুঁটি থেকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, মৃত অবস্থায় আনা ফয়সালের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত ও জখমের চিহ্ন রয়েছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল রোববার দিবাগত রাত ৩টার দিকে মিয়াজির পাড়া এলাকার ব্যবসায়ী মাওলানা কেফাইতুল্লাহর বাড়িতে চুরি করতে ঢোকার সন্দেহে ফয়সালকে হাতেনাতে আটক করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, গৃহকর্তা ও তার ছেলে রিফাত প্রথমে বাড়ির উঠানেই ফয়সালকে বেধড়ক প্রহার করেন। পরে ভোরের দিকে তাকে প্রধান সড়কের পাশে বৈদ্যুতিক খুঁটির সাথে দড়ি দিয়ে শক্ত করে বেঁধে রেখে সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ছয় ঘণ্টাব্যাপী নির্যাতন চালানো হয়।

প্রতিবেদকের হাতে আসা একাধিক ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, খুঁটিতে বাঁধা ফয়সালের পিঠের ওপর ভারী ইট চাপিয়ে রাখা হয়েছে এবং কয়েকজন তাকে কিল-ঘুষি, লাথি ও ইট দিয়ে নির্মমভাবে আঘাত করছে। এ সময় কৌতূহলী ভিড়ের মধ্যে অনেককে দৃশ্যটি দাঁড়িয়ে মুঠোফোনে ধারণ করতে দেখা গেলেও কেউ তাকে উদ্ধারে বা পুলিশে খবর দিতে এগিয়ে আসেনি।

নিহত ফয়সালের বাবা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "ছেলে যদি অপরাধ করেই থাকে তবে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া যেত। কিন্তু এভাবে পিটিয়ে ছটফট করিয়ে মেরে ফেলে আমার নাতিটাকে এতিম করার অধিকার তাদের কে দিয়েছে?"

ওসি জানান, পুলিশ খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত সন্দেহে রিফাত নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ দেখে বাকি অভিযুক্তদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযানে নেমেছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত এজাহার প্রাপ্তিসাপেক্ষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি