মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: পর্যটনগরী মৌলভিবাজারের শ্রীমঙ্গলে ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১০ লাখ মানুষের চিকিৎসার শেষ ভরসা। প্রতিদিন ৮০০ থেকে ১ হাজারের বেশি রোগী এখানে সেবা নিতে আসেন।
এদিকে কোটি টাকার যন্ত্রপাতি থাকার পরও এই হাসপাতালে গত ৩ মাস ধরে বন্ধ এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রাফি সেবা। ফলে বাধ্য হয়ে রোগীদের ছুটতে হচ্ছে শহরের বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। সেখানে গুনতে হচ্ছে ৩ থেকে ৫ গুণ বেশি টাকা।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালের এক্স-রে কক্ষের দরজায় ঝুলছে তালা। ভেতরে পড়ে আছে ১২ বছরের পুরনো মেশিন।
২০ হাজার টাকায় বদলে গেলো অর্পনার জীবন
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় চলতি বছরের জুন থেকে এই সেবা বন্ধ। কারণ এক্স-রে টেকনোলজিস্ট নেই। ব্র্যাকের প্রকল্পের আওতায় একজন ছিলেন, তিনিও এখন নেই।
অথচ হাসপাতালে রয়েছে ১টি এক্স-রে মেশিন এবং ২টি আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিন। ১২ বছর আগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া অ্যানালগ এক্স-রে মেশিনটি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে।
সরকারি হাসপাতালে ফ্রি বা নামমাত্র মূল্যে পরীক্ষার আশায় আসা রোগীরা হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
হাসপাতালে আসা সামিয়া বেগম বলেন, মেরুদণ্ডের ব্যথার জন্য এক্স-রে করাতে এসেছিলাম। বলল মেশিন বন্ধ। পরে বাইরের ক্লিনিকে ৬০০ টাকা দিয়ে করালাম। সরকারিতে ২০০ টাকায় হতো। আমাদের মতো গরিব মানুষের পক্ষে এত টাকা দেওয়া কষ্টকর।
তানিয়া জামান জানান, আলট্রাসনোগ্রাফি করাতে এসে শুনলাম ডাক্তার নেই। বাইরে থেকে করিয়ে আনতে বলল। ১০০০ টাকা লেগেছে। সরকারিতে ৩০০-৪০০ টাকায় হয়।
একজন চা শ্রমিক বলেন, কোমরের ব্যথা নিয়ে এসেছিলাম। এক্স-রে বন্ধ শুনে শহরে গিয়ে করালাম। সেখানে বেশি টাকা নিল। সরকারি হাসপাতালে থাকলে আমার উপকার হতো।
কুষ্টিয়ায় পদ্মার পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, পানিবন্দি ৩০ হাজার মানুষ
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া তাসমিন বলেন, হাসপাতালে এক্স-রে টেকনোলজিস্ট, সনোলজিস্ট চিকিৎসকসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য রয়েছে। সীমিত জনবল নিয়েই আমাদের সেবা চালাতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান মেশিনটি অ্যানালগ। ডিজিটাল মেশিন, সনোলজিস্ট ও টেকনোলজিস্ট না থাকায় পূর্ণাঙ্গ সেবা দেওয়া যাচ্ছে না। শূন্য পদগুলোতে দ্রুত জনবল নিয়োগের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বরাবর আবেদন করেছি।
স্থানীয় চিকিৎসকরা বলছেন, এক্স-রে ও আল্ট্রাসাউন্ড ছাড়া রোগ নির্ণয় অসম্ভব। হাড় ভাঙা, নিউমোনিয়া, পেটের ব্যথা, গর্ভবতী মায়েদের পরীক্ষা- সবকিছুই এখন বাইরে করতে হচ্ছে।
শ্রীমঙ্গলে প্রতিদিন হাজারো দেশি-বিদেশি পর্যটক আসেন। দুর্ঘটনা, ফুড পয়জনিং, চা-বাগানে কাজ করতে গিয়ে আঘাত- এসবের জন্য প্রাথমিক চিকিৎসার বড় ভরসা এই হাসপাতাল। সেই হাসপাতালেই এখন মৌলিক পরীক্ষার সেবাই বন্ধ।
স্থানীয় সচেতন মহল ও রোগীদের দাবি- এক্স-রে টেকনোলজিস্ট ও সনোলজিস্ট চিকিৎসক পদে দ্রুত নিয়োগ, অ্যানালগের পরিবর্তে ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন সরবরাহ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি করা হোক।
—জা. অর্থনীতি/এনজে