অনলাইন ডেস্ক: কয়েক সেকেন্ডেই কোড লিখে দিচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। ভুল ধরছে, কোডের ব্যাখ্যা দিচ্ছে, এমনকি একটি সফটওয়্যার বা অ্যাপ্লিকেশনের কাঠামোও তৈরি করে দিচ্ছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, এআইয়ের যুগে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল পড়া কি আগের চেয়ে কঠিন হয়ে যাচ্ছে?
কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাবিষয়ক নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ও কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জ্যানেট উইং বলেছেন, আমরা এআই সুনামির চূড়াটুকু কেবল দেখতে পাচ্ছি। অর্থাৎ প্রযুক্তির পরিবর্তন এখনো প্রাথমিক পর্যায়েই রয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই আসায় কম্পিউটার বিজ্ঞান শেখার প্রয়োজন কমেনি, বরং শেখার ধরন বদলে গেছে। আগে একজন শিক্ষার্থীকে অনেক কোড নিজে লিখতে হতো। এখন এআই সেই কাজে সহায়তা করতে পারে। কিন্তু কোডটি কেন কাজ করছে, কোথায় ভুল হতে পারে এবং বাস্তব সমস্যার জন্য কোন সমাধানটি উপযুক্ত। এসব বুঝতে এখনো মানুষের দক্ষতা প্রয়োজন আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, কম্পিউটার ও তথ্য গবেষণা বিজ্ঞানীদের কর্মসংস্থান ২০২৩ থেকে ২০৩৩ সালের মধ্যে প্রায় ২৬ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। অর্থাৎ এআইয়ের বিকাশের সাথে সংশ্লিষ্ট গবেষণা ও প্রযুক্তিগত কাজের চাহিদা কমার বদলে বাড়তে পারে।
এআইয়ের কারণে তৈরি হচ্ছে নতুন ধরনের পেশাও। মেশিন লার্নিং প্রকৌশলী, ডেটা বিজ্ঞানী, এআই সফটওয়্যার ডেভেলপার ও এআই গবেষকের মতো কাজের ক্ষেত্র দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে।
তবে কম্পিউটার বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, এআইকে শর্টকাট হিসেবে ব্যবহার না করে শেখার সহকারী হিসেবে ব্যবহার করা। শুরুতেই এআই দিয়ে পুরো কোড লিখিয়ে নিলে নিজের যুক্তি ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা দুর্বল হয়ে যেতে পারে
তাই শুধু প্রোগ্রামিং ভাষা জানা নয়, এখন প্রয়োজন বিশ্লেষণী চিন্তা, সমস্যা সমাধান, অ্যালগরিদম বোঝা, সাইবার নিরাপত্তা এবং এআই ব্যবহারের দক্ষতা।
অর্থাৎ এআই কম্পিউটার বিজ্ঞানকে অপ্রয়োজনীয় করে তুলছে না। বরং ভবিষ্যতের কম্পিউটার বিজ্ঞানীকে হতে হবে কোডার হওয়ার পাশাপাশি সমস্যা সমাধানকারী।
