ইবি প্রতিনিধি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. একে এম মতিনুর রহমান বলেছেন, জুলাই আন্দোলনের সংগ্রাম কত কঠিন ছিল তা ছবি বা ভিডিওগুলো দেখে এখনো অনুভব করতে পারি। ওই সময়ে ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিপক্ষে অবস্থান নেওয়াটা মোটেই কোনো সহজ বিষয় ছিল না। আমরা ২৪ জুলাইয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে ফ্যাসিস্ট তাড়িয়েছিলাম; আজ আবার নতুন করে শপথ গ্রহণ করি।
বুধবার (০৫ আগস্ট) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান’-এর দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি'র বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ইবির প্রধান ফটকের গ্রাফিতি আজও জুলাইয়ের স্মৃতি বেড়াচ্ছে
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মতিনুর রহমান বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় কোনো বিভেদ ছিল না, সবার লক্ষ্য ছিলো এক। সে ঐক্য বজায় রাখতে না পারলে দেশের সামনে আবারও ফ্যাসিবাদের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়ের মতো জাতীয় ঐক্য ধরে রাখতে না পারলে এবং রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ না হলে বাংলাদেশে আবারও ফ্যাসিস্টের আগমন ঘটতে পারে।
ড. মতিনুর রহমান বলেন, ফ্যাসিস্ট শক্তি বিভিন্নভাবে দেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করে পুনরায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। তাই ২০২৪ সালের জুলাইয়ে যারা ঐক্যবদ্ধভাবে ফ্যাসিস্টকে পরাজিত করেছিলেন, তাদের সবাইকে আবারও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান করছি।
আনাসদের স্বপ্ন ছিল একটি ইনসাফভিত্তিক বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার: শহীদ আনাসের বাবা
তিনি আরও বলেন, আমি মনে করি যে জুলাই একটি আবেগ ছিল। কিন্তু পুরোটাই যদি আবেগের বশবর্তী হয় তাহলে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা কঠিন হয়ে যাবে। আজও এই ৫ আগস্টের ৩৬ জুলাই উপলক্ষে বলতে চাই—আমরা যদি সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি, তাহলে ইনশাআল্লাহ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের যে লক্ষ্য— সেই লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্যকে ধারণ করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
অনুষ্ঠানে জুলাই-আগস্ট ও ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আব্দুস শহীদ মিয়া'র সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক। এছাড়া, বিভিন্ন অনুষদ ও বিভাগের শিক্ষক, হলের কর্মকর্তা-কর্মচারী, ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
ইবিতে মাকে লেখা শহীদ আনাসের চিঠির ফলক উন্মোচন
উল্লেখ্য, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান’-এর দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) প্রশাসন। কর্মসূচির মধ্যে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, আনন্দ শোভাযাত্রা, জুলাই ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী, চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগীতা, আলোচনা সভা এবং প্রীতি ভলিবল প্রতিযোগিতা'সহ অন্যান্য আয়োজন রয়েছে।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি