বিনোদন প্রতিবেদক: সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রানী পালের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। তবে কটাক্ষ ও অনলাইন হেনস্তার বিরুদ্ধে এবার অনন্য এক প্রতিবাদ গড়ে তুলেছেন দেশের শিক্ষক সমাজ, লেখক ও সাংবাদিকরা।
ঘটনার সূত্রে জানা যায়, ছুটির পর বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শাড়ি পরিহিত অবস্থায় হাঁটার একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে পোস্ট করেন বিউটি পাল। ভিডিওটির নেপথ্যে ব্যবহৃত হয় ‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে’ গানটি। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ এ জেলা শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষিকা নির্বাচিত হওয়া এই শিক্ষকের ভিডিওটি অনুমোদন ছাড়া ডাউনলোড করে ‘ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিদিন’ পেজের পরিচালক প্রবাসী আসিফ আহমদ ইকবাল হিরণ আপত্তিকর মন্তব্যসহ নিজের পেজে প্রকাশ করেন।
বিউটি পালের অভিযোগ, ব্যক্তিগত ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট গ্রহণ না করায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওই ব্যক্তি তাকে সামাজিকভাবে হেনস্তা করার চেষ্টা করেছেন। ঘটনার পর কথিত ‘সচেতন মহল’ সমালোচনা শুরু করলেও দ্রুতই শিক্ষকের পক্ষে অবস্থান নেন সাধারণ মানুষ ও শিক্ষক সমাজ।
শিক্ষিকার প্রতি সংহতি জানিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শত শত নারী শিক্ষক একই গান ব্যবহার করে ভিডিও রিলস বানিয়ে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা শুরু করেন। পঞ্চগড়ের ফেরদৌস, কুমিল্লার লায়লা নূর পিংকি, চট্টগ্রামের জয়ন্তী ভৌমিক ও কলেজশিক্ষক জান্নাত আরা খান পান্নাসহ অনেকেই এই প্রতিবাদে অংশ নেন। তারা স্পষ্ট জানান, পেশাগত পরিচয়ের পাশাপাশি একজন শিক্ষকেরও ব্যক্তিগত আনন্দ-বেদনা ও স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আনন্দের মাধ্যমে পাঠদানের জন্য শিক্ষকদের সাংস্কৃতিক চর্চাকে উৎসাহিত করা হলেও ব্যক্তিগত জীবনে পরিচ্ছন্ন ও হাসিখুশি থাকলে সামাজিক কটাক্ষের শিকার হওয়া দুঃখজনক।
বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি জানান, ভিডিওতে কোনো ধরনের অশ্লীলতা না থাকলে কেবল গান গাওয়া বা রিলস বানানোকে অন্যায় বলা যায় না। অন্যদিকে, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছেন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।
সমগ্র ঘটনায় দেশবাসীর এই সমর্থনকে বড় প্রাপ্তি উল্লেখ করে প্রধান শিক্ষিকা বিউটি পাল শিক্ষকদের মর্যাদায় ‘শিক্ষক সুরক্ষা আইন’ প্রণয়নের দাবি জানান। ১৯৮৭ সালে লেখা কালজয়ী ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ গানটি এত বছর পর এসে যেন শিক্ষকদের আত্মসম্মান ও অধিকার আদায়ের ডিজিটাল প্রতিবাদের ভাষায় পরিণত হয়েছে।