কুমিল্লা প্রতিনিধি: কুমিল্লায় ৯ বছরের এক শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য উপস্থাপন করে, বিচারিক কার্যক্রম শেষে ১৯ কার্যদিবসের মধ্যে আদালত রায় ঘোষণা করেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) কুমিল্লার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মো. ইয়াছিন আরাফাত এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৯ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাজরিন সুলতানা ঝুমুর (৯) নামে এক শিশুকে অপহরণ করে পাশের একটি ধানক্ষেতে নিয়ে যান অভিযুক্ত মফিজুল ইসলাম মফু (৫০)। সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানায়, নির্ধারিত সময়ে ঝুমুর বাড়ি না ফেরায় তার মা রাজিয়া আক্তার স্কুলে যোগাযোগ করেন। পরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে ধানক্ষেতে একটি শিশুর মরদেহ পড়ে থাকার খবর পান। ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি মেয়ের মরদেহ শনাক্ত করেন। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায়।
মামলার এক সাক্ষী আদালতে জানান, ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্তকে দ্রুত সরে যেতে দেখেছিলেন। ঘটনার পর অভিযুক্তকে নিজ বাড়িতে পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে নিহত শিশুর মা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। ২০২৪ সালের ১ মে র্যাব চাঁদপুর থেকে অভিযুক্ত মফিজুল ইসলাম মফুকে গ্রেপ্তার করে। এরপর ৬ মে তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. মাহবুবুল হক বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে এ রায় প্রদান ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। মামলায় বাদীপক্ষে আরও ছিলেন অ্যাডভোকেট খালেদা শারমিন ও অ্যাডভোকেট শাহিন হোসেন মিঠু। রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজন এবং অ্যাডভোকেট আবদুল মোতালেব।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি