ভাঙ্গা প্রতিনিধি: ফরিদপুরের ভাঙ্গায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব বিরোধের জেরে দুই ইউনিয়নের বাসিন্দাদের মধ্যে দফায় দফায় ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
রোববার (২৮ জুন) সকাল সাড়ে আটটা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত চলা এই সহিংসতায় পুলিশ, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদসহ অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
সংঘর্ষের জেরে ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কে টানা ৫ ঘণ্টা যানচলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। এতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো যাত্রী। পরে দুপুরে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মানিকদাহ ইউনিয়নের সুলতান মাতুব্বর এবং হামিরদী ইউনিয়নের সিরু মোল্লার সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। এর জের ধরে গত শনিবার (২৭ জুন) সন্ধ্যায় মহেশ্বরদী গ্রামের আব্দুল কালাম নামের এক ব্যক্তিকে পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ডে মারধর করা হয়।
এই ঘটনার প্রতিশোধ নিতে রোববার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে হামিরদী ইউনিয়নের মহেশ্বরদী মৌজার ১১টি গ্রামের বাসিন্দারা সংঘবদ্ধ হয়ে পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ডে চড়াও হন। এতে মানিকদাহ ইউনিয়নের পুকুরিয়া মৌজার ৫টি গ্রামের লোকজনের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও ইটপাটকেল নিয়ে চূড়ান্ত সংঘর্ষে লিপ্ত হলে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সকাল ৯টা ৪৫ মিনিট থেকে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে দাঙ্গাবাজরা।
৫ ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতাল ও ফরিদপুরের বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলালউদ্দিন জানান, শত শত গ্রামবাসী মহাসড়কে অবস্থান নেওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছুটা সময় লেগেছে। বর্তমানে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
ওসি জানান, দুপুর দেড়টার দিকে পুলিশি তৎপরতায় পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত করা সম্ভব হয়েছে। পুনরায় সংঘাত এড়াতে বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা রয়েছে।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি