লাগেজে ভোগান্তির দিন কি তবে শেষ হতে চলেছে? (ভিডিও)
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: আপনি কি কখনো ঢাকা বিমানবন্দরে নেমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাগেজের জন্য দাঁড়িয়ে থেকেছেন? আর যখন লাগেজ এলো, দেখলেন ব্যাগটা কাটা, ভেতরের জিনিসটাও উধাও! এই অভিজ্ঞতা যাদের হয়েছে, তারা জানেন এটা কতটা কষ্টের ও ক্ষোভের। কিন্তু আজকের খবরটি যদি শোনেন, তবে কিছুটা হলেও আশার আলো দেখতে পাবেন।

 

৫৪ বছর ধরে বাংলাদেশের বিমানবন্দরে যে প্রতিষ্ঠানটি একক আধিপত্য চালিয়ে এসেছে-বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, সেই প্রতিষ্ঠানের একচেটিয়া রাজত্বে এবার বড় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। তাদের জায়গা নিতে এখন সুইজারল্যান্ড, দুবাই, তুরস্ক ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশের বিশ্বখ্যাত কোম্পানিগুলো রীতিমতো প্রতিযোগিতা করছে।

প্রশ্ন হলো, এতে কি সত্যিই সাধারণ যাত্রীদের লাভ হবে, নাকি এটি শুধুই আরেকটি প্রতিশ্রুতি? দীর্ঘদিনের এই যন্ত্রণার অবসান হতে পারে খুব শিগগিরই, যা দেশের এভিয়েশনের ইতিহাসে এক বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

বিষয়টি একটু সহজ ভাষায় বোঝা যাক। আপনি যখন বিমানে ওঠেন, তখন আপনার ব্যাগ বিমানে তোলা, নামার পর বেল্টে পাঠানো, বিদেশ থেকে আসা বিমানে জ্বালানি দেয়া, রানওয়ে থেকে টার্মিনাল পর্যন্ত যাত্রীদের আনা-নেয়াসহ সব কাজকে বলে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং। এটি যেকোনো বিমানবন্দরের মূল ভিত্তি। একটি ফ্লাইট সময়মতো ছাড়বে কি না বা যাত্রী ভালো সেবা পাবেন কি না, তা অনেকাংশেই নির্ভর করে এই সেবার ওপর।

বাংলাদেশে এই পুরো কাজ এতদিন একা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সই করে আসছিল। প্রতিযোগিতা না থাকায় লাগেজ চুরি, ব্যাগ কাটা, যাত্রী হয়রানি ও বিদেশি এয়ারলাইন্সকে সময়মতো সেবা না দেয়ার অভিযোগ জমতে জমতে পাহাড় হয়ে গেছে। এ কারণে অনেক বড় আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সও ঢাকায় সেবা দিতে আগ্রহী হচ্ছিল না।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর এই দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছে। সিদ্ধান্ত হয়েছে, ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নতুন থার্ড টার্মিনালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। আন্তর্জাতিক শীর্ষ কোম্পানি সুইচপোর্ট, ডেনাতা, সেলেবি এভিয়েশন ও মেনজিস-এরা সবাই এখন থার্ড টার্মিনালে কাজ করতে আগ্রহী।

অনেকের মনে প্রশ্ন আসতে পারে, এতে কি বিমানের ১,৫০০ কোটি টাকার আয় হাতছাড়া হবে? উত্তর হলো-না, পুরোপুরি নয়। নতুন পরিকল্পনায় গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং দুটি ভাগে ভাগ করা হচ্ছে। কার্গো হ্যান্ডলিং বা মালামাল পরিবহনের নিয়ন্ত্রণ আগের মতোই বিমানের হাতে থাকবে। আর প্যাসেঞ্জার সেবায় বিদেশি অপারেটররা বিমানের সঙ্গে যৌথ অংশীদারিত্বে বা জয়েন্ট ভেঞ্চারে কাজ করবে। ফলে বিমান আয় হারানোর বদলে একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক অংশীদার পাবে এবং স্থানীয় কর্মীরা বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ পাবেন।

বিশ্বের প্রতিটি বড় বিমানবন্দরে একাধিক গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং অপারেটর থাকে। থার্ড টার্মিনালে বিশ্বমানের ব্যবস্থা চালু হলে টিকিটের দামে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক রেটিং উন্নত হওয়ায় নতুন নতুন এয়ারলাইন্স বাংলাদেশে আসতে শুরু করবে।

এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন-বিদেশি কোম্পানি এলেই কি লাগেজ চুরি বন্ধ হবে? আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী তারা নিয়ে আসবে স্বয়ংক্রিয় লাগেজ ট্র্যাকিং সিস্টেম, ডিজিটাল র‍্যাম্প ম্যানেজমেন্ট ও আধুনিক সিকিউরিটি টেকনোলজি। ফলে যাত্রীরা নিজেদের ফোনেই দেখতে পাবেন তাদের ব্যাগ কোথায় আছে।

তবে শুধু প্রযুক্তিই যথেষ্ট নয়, জবাবদিহিতার সংস্কৃতিও গড়ে তুলতে হবে। এই পরিবর্তন বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতকে নতুন করে গড়ার একটি সুযোগ।

আপনার কী মনে হয়, বিদেশি অপারেটর এলে কি লাগেজ চুরির মতো সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে? আপনার মতামত কমেন্টে জানান। ভিডিওটি ভালো লাগলে লাইক ও শেয়ার করে সাবস্ক্রাইব করার অনুরোধ রইলো।

ঢাকা বিমানবন্দরে কি এবার সত্যিই বন্ধ হচ্ছে লাগেজ চুরি?

বিমানবন্দরে নেমে ব্যাগ কাটা দেখেছেন? ভেতরে থাকা সোনা বা দামী জিনিস উধাও? গত ৫৪ বছর ধরে চলা এই চরম ভোগান্তির দিন কি তবে শেষ হতে যাচ্ছে? হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালে এবার গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবায় আসছে সুইজারল্যান্ড, দুবাই, তুরস্ক আর যুক্তরাজ্যের বিশ্বের শীর্ষ চার এভিয়েশন জায়ান্ট কোম্পানি। স্বয়ংক্রিয় ট্র্যাকিং প্রযুক্তি আর ডিজিটাল সিকিউরিটি নিয়ে আসছে তারা। এবার কি তবে শত শত কোটি টাকার চুরি আর যাত্রী হয়রানি চিরতরে বন্ধ হবে? নাকি এটিও শুধুই আরেকটি বড় আশ্বাস?

—জা. অর্থনীতি/এলএটি