খানজাহান আলী মাজারের দিঘির কুমির সরানোর সিদ্ধান্ত
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খান জাহান আলী (রহ.) মাজারের দিঘিতে কুমিরের হামলায় শিশুর মৃত্যুর ঘটনার পর জনস্বার্থে কুমিরটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। 

মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে মাজারের সার্বিক নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন- বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন, সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. শরীফ খানসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা, মাজারের খাদেম, সাংবাদিক ও ধর্মীয় নেতারা।

সভায় মাজার এলাকায় দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং কুমির সংরক্ষণের বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আপাতত কুমিরটি সরিয়ে নেওয়া হলেও পরবর্তীতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করে সেটিকে আবার দিঘিতে ফিরিয়ে আনা হবে।

সম্প্রতি মাজারের দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে ৮ বছরের শিশু ফাতেমার মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। এরপর থেকেই দর্শনার্থী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিভিন্ন মহল থেকে দিঘির কুমির নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি উঠতে থাকে। সেই প্রেক্ষাপটেই প্রশাসন, বন বিভাগ ও মাজার কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে এই জরুরি সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় বক্তারা বলেন, মানুষের জীবন ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দিঘির কুমিরটি বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে মাজার এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা, সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড স্থাপন, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যাপ্ত নজরদারির ব্যবস্থা করা হবে।

জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, খান জাহান আলী (রহ.) মাজার দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থাপনা। এখানে প্রতিদিন অসংখ্য দর্শনার্থী ও ভক্তের সমাগম ঘটে। তাই ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও অত্যন্ত জরুরি।

প্রশাসনের এই তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি/এনজে