যে বন্ধুর কারণে কেয়ামতের দিন আফসোস করতে হবে

কল্পনা করুন সেই ভয়াবহ দিনটির কথা, যেদিন প্রতিটি মানুষ নিজের আমলনামা নিয়ে চিন্তিত থাকবে। কিন্তু সেই কঠিন মুহূর্তেও অনেকের মুখে উচ্চারিত হবে এক চরম হাহাকার। পবিত্র কোরআন সেই আফসোসের চিত্র এঁকে দিয়েছে এভাবে— ‘হায়! যদি আমি অমুককে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ না করতাম!’

বন্ধুত্ব জীবনের এক শ্রেষ্ঠ নেয়ামত। কিন্তু এই নেয়ামত তখনই অভিশাপে পরিণত হয়, যখন আমরা ভুল মানুষকে সঙ্গী হিসেবে বেছে নিই। আপনার বন্ধু কি আপনাকে জান্নাতের পথে এগিয়ে দিচ্ছে, নাকি অজান্তেই ঠেলে দিচ্ছে ধ্বংসের মুখে? আজই সময় এসেছে নিজের ফ্রেন্ড-সার্কেল নিয়ে পুনরায় ভাবার।

আমাদের জীবনে এমন অনেক বন্ধু থাকে যাদের সাথে আমরা চা খাই, আড্ডা দেই বা সুখ-দুঃখ শেয়ার করি। কিন্তু একটু খেয়াল করলেই দেখবেন, আপনার উন্নতিতে তারা খুশি হওয়ার বদলে ভেতরে ভেতরে ঈর্ষা পোষণ করে। আপনার গোপন কথাগুলো তারা অন্যের কাছে হাসির খোরাক বানায়। আপনি যখন কোনো ভালো কাজ বা ইবাদতের দিকে এগোতে চান, তারা নানা অজুহাতে আপনাকে নিরুৎসাহিত করে। এই বিষাক্ত সম্পর্কগুলোই আমাদের দুনিয়া ও আখেরাত—দুটোই নষ্ট করার জন্য যথেষ্ট।

সম্পর্কের গুরুত্ব কেবল ধর্মেই নয়, বিজ্ঞানেও প্রমাণিত। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্টাডি অব অ্যাডাল্ট ডেভেলপমেন্ট’ নামক একটি গবেষণা দীর্ঘ ৮৫ বছর ধরে পরিচালিত হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে, মানুষের সুখ ও দীর্ঘায়ুর প্রধান চাবিকাঠি হলো সম্পর্কের মান। একজন ভালো বন্ধু যেমন মানসিক প্রশান্তি ও আয়ু বাড়াতে সাহায্য করে, তেমনি একজন নেতিবাচক বা বিষাক্ত বন্ধু বিষণ্নতা ও শারীরিক অসুস্থতার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

সুরা ফুরকানে আল্লাহ তায়ালা জালেম ব্যক্তির আফসোসের কথা উল্লেখ করেছেন। সেই ব্যক্তি সেদিন নিজের হাত কামড়াতে কামড়াতে বলবে যে, তার বন্ধু তাকে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করেছিল। রাসুলুল্লাহ (সা.) বন্ধুত্বের এক অনন্য উপমা দিয়েছেন। তিনি ভালো বন্ধুকে সুগন্ধি বিক্রেতার সাথে তুলনা করেছেন, যার পাশে থাকলে আপনি সুঘ্রাণ পাবেন। আর খারাপ বন্ধু হলো কামারের হাঁপড়, যার কাছে থাকলে আপনার কাপড় পুড়ে যেতে পারে অথবা দুর্গন্ধ সইতে হবে।

কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে খারাপ বন্ধু চেনার কিছু স্পষ্ট উপায় রয়েছে:

সে আপনাকে আল্লাহর স্মরণ ও ইবাদত থেকে দূরে সরিয়ে রাখে।

আপনার কোনো দুর্বলতা পেলে তা নিয়ে উপহাস করে।

মন্দ কাজে উৎসাহ দেয় এবং ভালো কাজে বাধা সৃষ্টি করে।

আপনার সফলতায় সে মনে মনে হিংসা করে।

আখেরাতের সেই কঠিন আফসোস থেকে বাঁচতে আমাদের এখনই কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। আপনার চারপাশের ঘনিষ্ঠ পাঁচজন বন্ধুর দিকে তাকান; দেখুন তারা আপনাকে কোন দিকে নিয়ে যাচ্ছে। যদি দেখেন কেউ আপনাকে পাপের পথে টানছে, তবে তার থেকে সম্মানজনক দূরত্ব বজায় রাখুন। মনে রাখবেন, বিপথগামী বন্ধুর সাহচর্যের চেয়ে একাকীত্ব অনেক উত্তম।

আসুন, আমরা এমন বন্ধু খুঁজি যারা আমাদের জান্নাতের পথে সঙ্গী হবে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সৎসঙ্গ নসিব করুন এবং ভুল বন্ধুর অনিষ্ট থেকে রক্ষা করুন। আমিন।

 

 জা. অর্থনীতি/ উমর