ফের হাসপাতালে জুবিনের স্ত্রী

স্বামী প্রয়াত ভারতীয় সংগীতশিল্পী জুবিন গার্গের শোকে আবারও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন স্ত্রী গরিমা সাইকিয়া গার্গ। গত শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে হঠাৎ অসুস্থ বোধ করায় গুয়াহাটির দিশপুর হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। জুবিনের মৃত্যুর পর এর আগেও অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তিনি। 

হাসপাতাল সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় একটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসের সমস্যায় ভুগছেন গরিমা। হাসপাতালে ভর্তির সময় তার রক্তে শর্করার মাত্রা ছিল মাত্র ৬০ এমজি। 

জানা গেছে, ডা. চন্দন মোদকের নেতৃত্বে একদল বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক গরিমার চিকিৎসা করছেন। হাসপাতালে পৌঁছে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, তিনি মূলত রক্তচাপজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। শারীরিক অস্বস্তি বাড়ায় ঝুঁকি এড়াতে দ্রুত ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 

এদিকে, মেডিক্যাল রিপোর্ট অনুযায়ী, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সময় তার রক্তে শর্করার মাত্রা কমে প্রায় ৬০ মিগ্রা/ডেসি লিটারে নেমে গিয়েছিল। চিকিৎসকদের মতে, গত কয়েকদিন ধরে পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং মানসিক চাপই এই শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটিয়েছে। 

এ প্রসঙ্গে ডা. চন্দন জানিয়েছেন, গরিমা এখন অনেকটাই স্থিতিশীল। তবে, তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ধকল কাটিয়ে সম্পূর্ণ সুস্থ হতে আরও কয়েকদিন লাগবে। তারপরই তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড় দেওয়া হবে। 

একটি চিঠির মাধ্যমে জুবিনের জীবনে আগমন ঘটে গরিমা সাইকিয়ার। আসামের গোলাঘাটের তরুণী গরিমা। মুম্বাইয়ে ফ্যাশন ডিজাইনিং বিষয়ে পড়ার সময় জুবিনের ‘অনামিকা’ ও ‘মায়া’ অ্যালবামের গান শুনে গভীরভাবে প্রভাবিত হন গরিমা। ঘরছাড়া, মন খারাপের মুহূর্তে গায়ককে একটি চিঠি লেখেন এই তরুণী। গরিমার এই চিঠি প্রশংসা ও আবেগে ভরা ছিল। আর সেই অচেনা অনুরাগী গরিমার চিঠি পৌঁছায় জুবিনের কাছে। সাধারণত, অনুরাগীদের চিঠির জবাব দিতেন না জুবিন। কিন্তু অপ্রত্যাশিতভাবে, গরিমার সেই চিঠির জবাব দেন জুবিন। সেই একমাত্র যোগাযোগ ধীরে ধীরে রূপ নেয় প্রেমে। একটি সাধারণ চিঠি যে দুটি মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে, জুবিন-গরিমার গল্প তার জীবন্ত উদাহরণ। 

প্রেম গাঢ় হতেই জুবিন গরিমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। কিন্তু তাদের এই প্রেমের পথ সহজ ছিল না। গরিমার পরিবার, বিশেষ করে তার বাবা, এই সম্পর্ক মেনে নেননি। অন্যদিকে, জুবিনের অস্থির ও খামখেয়ালি স্বভাবও গরিমাকে বিচলিত করত। এই চাপ সহ্য করতে না পেরে এক সময় গরিমা সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেন। এই সময় জুবিনের জীবনে নেমে আসে ঘোর অন্ধকার। 

প্রকৃত ভালোবাসা কখনো হারিয়ে যায় না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা আবার কাছাকাছি আসেন। ২০০২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি, বলিউডে জুবিনের বড় ব্রেকের আগেই তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এরপর গরিমা শুধুই স্ত্রী নন, হয়ে ওঠেন জুবিনের জীবনের স্থিতিশীল এক আশ্রয়। একদিকে, গরিমা নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন একজন ফ্যাশন ডিজাইনার হিসেবে। অন্যদিকে, ছায়াসঙ্গী হন জুবিনের সৃষ্টিশীল পথচলায়। আসামের অন্যতম আদর্শ দম্পতি হয়ে ওঠেন তারা। সবশেষে প্রকৃতি তাদের চিরতরে আলাদা করে দিয়েছে। 

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ৫২ বছর বয়সে জনপ্রিয় ভারতীয় গায়ক ও সংগীত পরিচালক জুবিন গার্গ সিঙ্গাপুরে একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মারা যান। সেন্ট জন’স দ্বীপের কাছে সমুদ্রে সাঁতার কাটার সময় তিনি তলিয়ে যান এবং পরে হাসপাতালে মৃত ঘোষণা করা হয়। 

অস্বাভাবিকভাবে পৃথিবী থেকে বিদায় নেওয়ায় জুবিনের মৃত্যু বহু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। দুর্ঘটনা ছিল প্রকৃত দুর্ঘটনা নাকি কোনো ষড়যন্ত্র-এ বিষয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে। 

—জা. অর্থনীতি/এনএ