প্রসেসর সরবরাহ কমেছে ২১ শতাংশ

প্রযুক্তি ডেস্ক: মেমোরি চিপের বাড়তি দাম, গ্রাহকদের ফোন পরিবর্তনের দীর্ঘ সময় এবং ফোন নির্মাতাদের স্টক করে রাখার কারণে বৈশ্বিক স্মার্টফোন প্রসেসর বা সিস্টেম-অন-চিপের বাজারে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) স্মার্টফোন প্রসেসর সরবরাহ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১ শতাংশ কমেছে।

কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের ‘গ্লোবাল স্মার্টফোন এসওসি শিপমেন্টস প্রিলিমিনারি ভিউ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, প্রসেসর সরবরাহে এই মন্দার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে কম ও মাঝারি দামের স্মার্টফোন বাজারে। উৎপাদন খরচ ও উপাদানের মূল্য বৃদ্ধির মুখে বাজেট ক্যাটাগরির হ্যান্ডসেট তৈরি কমিয়ে মুনাফার হার নিশ্চিত করতে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে ব্র্যান্ডগুলো। অন্যদিকে ফ্ল্যাগশিপ বা প্রিমিয়াম প্রসেসর খাতটি বাজারের এই টানাপোড়েনের মধ্যেও তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে।

স্মার্টফোন চিপের এই মন্দায় অ্যাপল ও স্যামসাং স্বস্তিদায়ক অবস্থানে রয়েছে। নিজস্ব প্রসেসর সরবরাহ ব্যবস্থা ও বিশ্বজুড়ে প্রিমিয়াম ফোনের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে ক্ষতি সামলে নিতে পেরেছে ব্র্যান্ড দুটি। তবে বাজেট ও মিড-রেঞ্জ ডিভাইসের ওপর বেশি নির্ভরশীল হওয়ায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে ইউনিসক ও মিডিয়াটেক।

অন্যদিকে মার্কিন চিপমেকার কোয়ালকমও কিছুটা চাপে পড়েছে। স্যামসাং তাদের আগামী ফ্ল্যাগশিপ ‘গ্যালাক্সি এস২৬’ সিরিজে স্ন্যাপড্রাগন ৮ এলিট জেন ৫ প্রসেসরের পাশাপাশি নিজস্ব এক্সিনোস ২৬০০ চিপ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি চীনের স্মার্টফোন বাজারে বিক্রি কমে যাওয়ার প্রভাবও পড়েছে কোয়ালকমের ওপর।

কাউন্টার পয়েন্টের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক শিবানী পরাশর জানান, টিএসএমসি-এর ২-ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি তিনটি নতুন ফ্ল্যাগশিপ চিপসেট সেপ্টেম্বরে উন্মোচিত হয়েছে অ্যাপলের এ২০ সিরিজ, মিডিয়াটেকের ডাইমেনসিটি ৯৬০০ প্রো এবং কোয়ালকমের স্ন্যাপড্রাগন ৮ এলিট জেন ৬। এসব চিপের ওপর ভর করে চতুর্থ প্রান্তিকে কিছুটা গতি ফিরলেও সামগ্রিক সরবরাহ গত বছরের চতুর্থ প্রান্তিকের চেয়ে কম থাকবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রসেসরের বাজারে এ টানাটানির অন্যতম প্রধান কারণ মেমোরি চিপের ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধি। আগের প্রান্তিকের তুলনায় তৃতীয় প্রান্তিকে মেমোরির দাম ৫ থেকে ১০ শতাংশ বেড়েছে এবং চতুর্থ প্রান্তিকে আরও ৫ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। উৎপাদন খরচ বা বিওএম (বিল অব ম্যাটেরিয়ালস) নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছু এন্ট্রি-লেভেল ব্র্যান্ড পুরোনো ফোন থেকে সংগৃহীত ‘রিসাইকেল্ড মেমোরি’ ব্যবহারের চেষ্টা করলেও আধুনিক চিপসেটের জটিল নকশার কারণে তা খুব একটা কার্যকর হচ্ছে না।

বাজারের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি তুলে ধরে কাউন্টার পয়েন্টের প্রধান বিশ্লেষক সৌমেন মণ্ডল জানান, ২০২৬ সাল শেষে স্মার্টফোন প্রসেসরের মোট সরবরাহ আগের বছরের চেয়ে ২০ শতাংশ কমবে এবং ২০২৭ সালে আরও ৩ থেকে ৪ শতাংশ হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উন্নত ২-ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে স্থানান্তরের কারণে চিপের মূল উৎপাদন খরচ আগামী দিনে স্মার্টফোন বাজারের ওপর চাপ বাড়িয়ে রাখবে।