নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নীতি ও বাস্তবায়ন বিভাগ দ্রুত সময়ের মধ্যে আলাদা হবে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান মো. আহসান হাবীব। গতকাল মঙ্গলবার এনবিআরের মাল্টিপারপাস হলে ৪৫তম বিসিএস (কর) ক্যাডার কর্মকর্তাদের বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন।
বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (ট্যাক্সসেশন) অ্যাসোসিয়েশনের অধীনে ৪৪তম বিসিএস (কর) ব্যাচের কর্মকর্তারা ৪৫তম বিসিএস (কর) ব্যাচের কর্মকর্তাদের এই নবীন বরণের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি ও কর কমিশনার কবীর উদ্দিন মোল্লা সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ও কর কমিশনার সৈয়দ মহিদুল হাসান।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘এনবিআরের সেপারেশন হয়ে নীতি ও বাস্তবায়ন বিভাগ হচ্ছে। এটা খুব তাড়াতাড়ি ঘটবে। আমরা একটা ট্রান্সপারেন্ট এনবিআর চাই, আমরা যেই এনবিআরের স্বপ্ন দেখি, সেই এনবিআর হবে পেপারলেস, সেই এনবিআরের সাথে কোনো ধরনের অনিয়ম থাকবে না। সেই এনবিআরে ২৬ হাজার কর্মকর্তা কর্মচারীর সাথে ৫০ লাখ করদাতার কোনো ধরনের যোগাযোগ থাকবে না। আমরা এই এনবিআর প্রতিষ্ঠা করবো ইনশাআল্লাহ। এটা আমাদের দৃঢ় প্রত্যয়, আমরা ওয়াদা দিয়েছি, আমাদের সরকারের কাছে, আমাদের জনগণের কাছে।’
করদাতাদের সন্তুষ্টির বিষয় জানিয়ে চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমি অনেক ট্যাক্সপেয়ারকে জিজ্ঞাসা করেছি, আয়কর করদাতাদের আপনি এ বছর কত টাকা ঘুষ দিয়েছেন? বলে এক পয়সাও না’।
তিনি বলেন, ‘গতবার ৪৯ লাখ করদাতা রিটার্ন দিয়েছেন, এবারে আরও বেশি দেবেন। ১০ শতাংশ ইনক্রিজ করে ৫৫ লাখ করদাতা রিটার্ন দেবেন। এর মধ্যে ৫২ বা ৫৩ লাখ রিটার্ন দিবেন অনলাইনে। এই ৫২ লাখ করদাতাকে আমরা হ্যাপি করতে পেরেছি। আমরা এটা পেরেছি, এটা অসম্ভব ছিল, বাট উই ডু ইট।’
অটোমেশন বিষয়ে চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের একের পর এক বিদেশিদের সাথে মিটিং করতে হচ্ছে। ভিক্ষা চাওয়ার কারণে নয়। আমাদের রেভিনিউ সিস্টেম দুর্বল, ডিআরএম ডমেস্টিক রেভিনিউ মোবিলাইজেশনের অবস্থা ভালো নয়। আমরা অটোমেটিক সিস্টেমে চলি না, আমাদের ভেতরে অনিয়ম আছে-ইত্যাদি বিষয়গুলো বিশ্ববাসী আমাদের কাছ থেকে জানতে চায়। অটোমেশনে আমরা যাচ্ছি, এন্ড-টু-এন্ড অটোমেশন, ২৯ সালের ভিতরে আমরা টার্গেট নিয়েছি, ৩০ সালের মধ্যে আমরা পুরোপুরি কমপ্লিট করব।’
ভ্যাটের প্রবৃদ্ধি ৩০ শতাংশ হবে জানিয়ে চেয়ারম্যান বলেন, ‘ভ্যাটের আগস্ট মানে অক্টোবর মাসের প্রবৃদ্ধি ২৩ শতাংশ। এটা আরও বাড়বে, এটা ৩০ শতাংশ হবে।’
