ভোটার উপস্থিতিতে পিছিয়ে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোতে ভোটার উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তবে ভোটাধিকার প্রাপ্ত জনসংখ্যার অনুপাতে ভোটার উপস্থিতিতে দেশটি বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় পিছিয়ে। ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দেশটিতে ভোটার উপস্থিতি কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছালেও ৫০টি দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ছিল ৩১তম।

পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক বিশ্লেষণে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ২০২০ সালের নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রে ১৫ কোটি ৮৪ লাখের বেশি মানুষ ভোট দেন, যা ভোটাধিকার প্রাপ্ত জনসংখ্যার ৬২ দশমিক ৮ শতাংশ। এর আগে ২০১৮ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনেও ভোটার উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক বেশি। ওই নির্বাচনে ৪৭ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ৫১ দশমিক ৮ শতাংশ যোগ্য ভোটার ভোট দিয়েছিলেন।

২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা আবারও বেশি ভোটার উপস্থিতির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপে দেখা যায়, নিবন্ধিত ভোটারদের ৭২ শতাংশ ওই বছরের নির্বাচনে ভোট দিতে অত্যন্ত বা বেশ আগ্রহী ছিলেন। আর ৬৫ শতাংশ মনে করতেন, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে যাবে, তা নির্বাচনের মাধ্যমে নির্ধারিত হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৫০ দেশের তুলনামূলক চিত্র: যুক্তরাষ্ট্রের ভোটার উপস্থিতির সঙ্গে অন্য দেশের তুলনা করতে পিউ রিসার্চ সেন্টার মোট ৫০টি দেশকে বিশ্লেষণে অন্তর্ভুক্ত করে। এর মধ্যে ছিল অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) ৩৭টি দেশ, সংস্থাটির সদস্যপদপ্রত্যাশী ছয়টি দেশ এবং অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ আরও সাতটি গণতান্ত্রিক দেশ।

তুলনার ক্ষেত্রে দুটি সূচক ব্যবহার করা হয়। ভোটাধিকার প্রাপ্ত মোট জনসংখ্যার অনুপাতে ভোটার উপস্থিতি এবং নিবন্ধিত ভোটারের অনুপাতে ভোটদানের হার। ২০২২ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিটি দেশের সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনের তথ্য এতে বিবেচনা করা হয়।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভোট দেওয়ার বয়সী জনসংখ্যার অনুপাতে ভোটার উপস্থিতিতে ৫০টি দেশের মধ্যে শীর্ষে ছিল উরুগুয়ে। দেশটির ২০১৯ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত পর্বে ভোট দেন ৯৪ দশমিক ৯ শতাংশ বৈধ ভোটার। নিবন্ধিত ভোটারের হিসাবে এই হার ছিল ৯০ দশমিক ১ শতাংশ। তালিকায় তুরস্কের অবস্থান ছিল দ্বিতীয়। ২০১৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দেশটির ভোটার উপস্থিতি ছিল ৮৯ শতাংশ। পেরুতে গত বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এই হার ছিল ৮৩ দশমিক ৬ শতাংশ। অন্যদিকে সুইজারল্যান্ডে ২০১৯ সালের সংসদ নির্বাচনে মাত্র ৩৬ দশমিক ১ শতাংশ বৈধ ভোটার ভোট দেন। ৫০টি দেশের মধ্যে এটিই ছিল সর্বনিম্ন। তবে এর পেছনে ভোটারদের অনাগ্রহের চেয়ে জনসংখ্যাগত কারণ বেশি ভূমিকা রাখতে পারে। দেশটির স্থায়ী বাসিন্দাদের ২৫ দশমিক ৭ শতাংশ বিদেশি নাগরিক হওয়ায় তাদের ভোট দেওয়ার অধিকার নেই।

ভোটার নিবন্ধনেও পিছিয়ে যুক্তরাষ্ট্র: বিভিন্ন দেশের ভোটার উপস্থিতির তুলনা করতে গেলে ভোটার নিবন্ধন পদ্ধতির পার্থক্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। অনেক দেশে সরকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকায় নাগরিকদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে। সুইডেন ও জাপানে যোগ্যতা অর্জনের পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার নিবন্ধনের ব্যবস্থা রয়েছে। যুক্তরাজ্যেও ভোটার নিবন্ধনে সরকার সক্রিয় ভূমিকা রাখে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ভোটারদের নিজেদের উদ্যোগেই নিবন্ধন করতে হয়। দেশটিতে ভোটার নিবন্ধনের দায়িত্ব কোনো কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে নেই। অঙ্গরাজ্য, কাউন্টি ও শহরভিত্তিক কর্তৃপক্ষ এ কাজ করে। ফলে একেক এলাকায় নিবন্ধনের নিয়মে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী, ২০২০ সালে দেশটিতে ১৬ কোটি ৮৩ লাখ মানুষ ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত ছিলেন। তবে এই সংখ্যা ভোটাধিকার প্রাপ্ত মোট জনসংখ্যার মাত্র ৬৬ দশমিক ৭ শতাংশ। বিপরীতে যুক্তরাজ্যে ২০১৯ সালের সংসদ নির্বাচনের সময় ৯১ দশমিক ৮ শতাংশ ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত ছিলেন। কানাডা, নিউজিল্যান্ড ও জার্মানিতে এই হার ছিল যথাক্রমে ৮৯ দশমিক ১, ৯৪ দশমিক ১ ও ৯০ দশমিক ৭ শতাংশ।

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২০ সালের নির্বাচনে বৈধ ভোটার উপস্থিতি ছিল ৬২ দশমিক ৮ শতাংশ। অথচ নিবন্ধিত ভোটারদের হিসাবে এই হার ছিল ৯৪ দশমিক ১ শতাংশ। অর্থাৎ দেশটিতে যারা ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হন, তাদের ভোট দেওয়ার প্রবণতা তুলনামূলক বেশি।

এই ব্যবধান কমাতে কয়েকটি অঙ্গরাজ্য স্বয়ংক্রিয় ভোটার নিবন্ধন চালু করেছে। ২০২২ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ১৯টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিতে নির্দিষ্ট সরকারি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের সময় নাগরিকদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের ব্যবস্থা ছিল। এ ছাড়া নর্থ ডাকোটায় ভোটার নিবন্ধনের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।