গুলশানে ‘কিং ফিশার’ বারে বিপুল মদ-বিয়ার জব্দ, সিলগালা

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর গুলশানের ‘কিং ফিশার রেস্টুরেন্ট ও বার’-এ যৌথ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ শুল্ক ফাঁকি দেওয়া অবৈধ মদ ও বিয়ার জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর এবং স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অনুমোদিত সফটওয়্যার ও বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় বারটি সিলগালা করা হয়েছে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) মধ্যরাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গুলশান-২ মোড়সংলগ্ন এইচ হোটেলের তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় অবস্থিত এই বারে অভিযানটি পরিচালিত হয়। রাত সাড়ে ১২টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত চলা এই অভিযানে কাস্টমস গোয়েন্দা, ভ্যাট গোয়েন্দা ও ইনকাম ট্যাক্স ইন্টেলিজেন্সের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি এলিট ফোর্স এসআরবি ও আনসার সদস্যরা অংশ নেন।

অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদ ছিল যে প্রতিষ্ঠানটিতে বিপুল পরিমাণ অবৈধ মদ ও বিয়ার মজুদ রেখে তা শুল্ক ফাঁকি দিয়ে সরবরাহ করা হচ্ছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান শুরু করেই পুরো বারটি ঘিরে ফেলেন কর্মকর্তারা। পরে বারের হিসাব শাখার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নথিপত্র, রেজিস্টার এবং এনবিআর-এর অনুমোদিত সফটওয়্যারের তথ্য যাচাই-বাছাই করা হয়।

প্রাথমিক হিসাব-নিকাশে বেশ কিছু অসংগতি পাওয়ার দাবি করেছেন আভিযানিক দলটি। অভিযানের একপর্যায়ে বিলবোর্ড দিয়ে কৌশলে আড়াল করে রাখা একটি গোপন কক্ষের সন্ধান পান কর্মকর্তারা। দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের কাছে কক্ষটির চাবি চাওয়া হলেও তারা তা প্রদানে ব্যর্থ হন। পরে তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে সেখানে শুল্ক পরিশোধ না করা বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ ও বিয়ারের সন্ধান পাওয়া যায়।

অভিযানে সর্বমোট ৮২৬ লিটার দেশি-বিদেশি মদ এবং ৪ হাজার ৬৩১টি ক্যানে থাকা প্রায় ১ হাজার ৫৩৩ লিটার বিয়ার (প্রায় দেড় হাজার বোতল ও ক্যান) জব্দ করা হয়। এ ছাড়া বারের চালান ও হিসাবের রেজিস্টার বইও জব্দ করা হয়েছে।

অভিযানে অংশ নেওয়া শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রেজভী আহমেদ বলেন, ‘আমরা রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া মদ ও বিয়ারের বোতলগুলো জব্দ করেছি। একই সঙ্গে বারটি সিলগালা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং বিকেলে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।’

—জা. অর্থনীতি/এএইচএ