বাংলা কিউআর লেনদেনে প্রণোদনা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: ডিজিটাল লেনদেনের পরিসর বাড়াতে এবার ব্যবসায়ীদের জন্য প্রণোদনার দুয়ার আরও খুলে দিল বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলা কিউআরের মাধ্যমে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতিটি যোগ্য লেনদেনে প্রণোদনা পাবেন সংশ্লিষ্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান। আগে এ সুবিধা নির্দিষ্ট কিছু ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন ট্রেড লাইসেন্সধারী অন্যান্য মার্চেন্টকেও এর আওতায় আনা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ছোট দোকান থেকে বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সর্বত্র বাংলা কিউআরের ব্যবহার বাড়ানোর নতুন উদ্যোগ নেওয়া হলো।

জাতীয় পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (এনপিএসবি)-এর মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া বাংলা কিউআরভিত্তিক ২ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতিটি লেনদেনে প্রণোদনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এসব লেনদেনে অর্থ গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান বা অ্যাকুয়্যারারকে শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ এবং অর্থ প্রদানকারীর প্রতিষ্ঠান বা ইস্যুয়ারকে শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়া হবে। প্রণোদনা দেওয়া হবে মাসিক ভিত্তিতে।

উদাহরণ হিসেবে, কোনো ক্রেতা বাংলা কিউআরের মাধ্যমে ৫০০ টাকা পরিশোধ করলে, লেনদেনটি প্রণোদনার শর্ত পূরণ করলে অর্থ গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান পাবে ৫০ পয়সা এবং অর্থ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান পাবে ১ টাকা। একইভাবে ২ হাজার টাকার লেনদেনে এ হার অনুযায়ী প্রণোদনা হবে যথাক্রমে ২ টাকা ও ৪ টাকা। এই অর্থ মার্চেন্ট বা ক্রেতাকে সরাসরি দেওয়া হচ্ছে না; দেওয়া হচ্ছে সংশ্লিষ্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানকে।

ক্ষুদ্র দোকান থেকে ট্রেড লাইসেন্সধারী ব্যবসায়ী
আগে বাংলা কিউআর লেনদেনে প্রণোদনার সুবিধা নির্দিষ্ট কিছু ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক বিক্রেতা এবং সেবাদানকারী মার্চেন্ট পয়েন্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। গত ১০ আগস্টের নির্দেশনায় এ ব্যবস্থা চালু করা হয়। নতুন সার্কুলারে সেই পরিধি বাড়িয়ে ট্রেড লাইসেন্সধারী অন্যান্য মার্চেন্টকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ফলে মুদি দোকান, পোশাকের দোকান, খাবারের দোকান কিংবা অন্যান্য লাইসেন্সধারী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বাংলা কিউআর লেনদেনের ক্ষেত্রেও প্রণোদনা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে যদি সংশ্লিষ্ট লেনদেন ও মার্চেন্ট নির্দেশনার শর্ত পূরণ করে। বাংলাদেশে কার্যরত তফসিলি ব্যাংক, মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান, পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার, পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটর এবং আন্তর্জাতিক পেমেন্ট স্কিমের জন্য নির্দেশনাটি প্রযোজ্য।

লক্ষ্য নগদ টাকার ব্যবহার কমানো
বাংলা কিউআরের মাধ্যমে ক্রেতারা বিভিন্ন সমর্থিত ব্যাংক ও আর্থিক সেবার অ্যাপ ব্যবহার করে পণ্যের দাম পরিশোধ করতে পারেন। এতে নগদ টাকা বহন এবং খুচরা টাকা নিয়ে সমস্যার বিকল্প তৈরি হয়। অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের ডিজিটাল লেনদেন গ্রহণের সুযোগ বাড়ে।

প্রণোদনার পরিধি বাড়ানোর মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক আরও বেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে এই ব্যবস্থায় উৎসাহিত করতে চাইছে। তবে শুধু প্রণোদনা দিলেই বাংলা কিউআরের ব্যবহার বাড়বে, এমন নিশ্চয়তা নেই। মার্চেন্টদের নিবন্ধন সহজ করা, লেনদেনের নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করা এবং গ্রাহকদের মধ্যে ডিজিটাল পেমেন্টের অভ্যাস তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ।