প্রযুক্তি ডেস্ক: প্রতিষ্ঠানগুলোতে অনুমোদনহীন বা গোপনে ব্যবহৃত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) টুল শনাক্ত এবং এর নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে ‘সফোসে এআই ডিফেন্স’ নামের নতুন সেবা চালু করেছে সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সফোস। ডিভাইস, নেটওয়ার্ক ও ব্রাউজার পর্যায়ে এআই ব্যবহারে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই মূলত এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের অনুমতি ছাড়া এআই টুল ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে, যা তথ্য ফাঁসের বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী, প্রায় ৬৯ শতাংশ প্রতিষ্ঠান মনে করে তাদের কর্মীরা অনুমোদিত ব্যবস্থার বাইরে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন। এমনকি গত এক বছরে ৮২ শতাংশ প্রতিষ্ঠান তাদের সিস্টেমে অননুমোদিত এআই এজেন্টের উপস্থিতি পেয়েছে, যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ৯০ শতাংশের বেশি তথ্যপ্রযুক্তি প্রধান (আইটি লিডার)। ইন্টারন্যাশনাল ডেটা করপোরেশন (আইডিসি)-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৮ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে এআই এজেন্টের সংখ্যা ১৩০ কোটিতে পৌঁছাতে পারে, যা ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেবে।
অপরদিকে, সাইবার অপরাধীরাও এখন আক্রমণ শানাতে এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করছে। সফোসের গবেষণা শাখা সফোস এক্স-অপস জানায়, চলতি বছরে তারা এক হ্যাকারকে শনাক্ত করেছে, যিনি একটি প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কে এআই এজেন্ট ব্যবহার করে প্রায় ৮০টি ম্যালওয়্যার মডিউল তৈরি ও পরীক্ষা করেছিলেন। এছাড়া ডার্কনেটে উন্নত এআই মডেলের এপিআই কী কেনাবেচা এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়ার প্রম্পট তৈরির কৌশল বিনিময়ের মতো ঘটনাও বাড়ছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ‘সফোস এআই ডিফেন্স’ প্রতিষ্ঠানগুলোর অজ্ঞাত এআই ব্যবহার শনাক্ত করে তাৎক্ষণিকভাবে তা মূল নিরাপত্তানীতির আওতায় নিয়ে আসবে। সফোস ফিউশন সেবার মাধ্যমে সাইন-ইন, ব্রাউজার ও নেটওয়ার্কের সুরক্ষাকে একসঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে, ফলে আলাদা কোনো নতুন টুল পরিচালনার ঝামেলা ছাড়াই এআই প্রদানকৃত প্রম্পট ও ফাইল আপলোডের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা মাস উপলক্ষে চালু হওয়া এই সেবাটি এখন থেকে সব ধরনের প্রতিষ্ঠানের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।