আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইয়েমেনে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং ইরানের সমর্থনপুষ্ট হুথি বিদ্রোহীদের চূড়ান্ত পতনকে প্রধান লক্ষ্য হিসেবে ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকার। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফরাহ আল-জৌবা বলেছেন, শান্তির প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলেও রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব অস্বীকার করে কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীকে অস্ত্র হাতে রাখার সুযোগ দিতে চায় না সরকার।
সম্প্রতি লন্ডনভিত্তিক আরবি দৈনিক আশরাক আল-আওসাতকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইয়েমেন সরকার শান্তির পথ পরিত্যাগ করেনি। তবে রাষ্ট্রবিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র রাখার সুযোগ দেয়, এমন শান্তির ধারণা থেকে সরে এসেছে। দেশের জনগণের রাষ্ট্রীয় অধিকার কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর ইচ্ছার ওপর নির্ভর করতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
২০১৪ সালে গৃহযুদ্ধ শুরুর পর ইয়েমেনে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। ২০১৫ সালে রাজধানী সানা দখল করে হুথিরা। এরপর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে পুনর্বহাল করতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সামরিক অভিযান শুরু করে। বর্তমানে রাজধানী সানাসহ উত্তর ইয়েমেনের বিস্তীর্ণ অঞ্চল হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলে কর্তৃত্ব রয়েছে সৌদি সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকারের।
ইয়েমেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযুক্তকারী কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর মতে, এই জলপথে অবাধ ও নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে ইয়েমেনের ভূখণ্ড থেকেই নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
সৌদি আরবের রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তার প্রশংসা করে আফরাহ আল-জৌবা বলেন, সরকারের সাফল্য শুধু কতটি শহর পুনরুদ্ধার হয়েছে, তা দিয়ে বিচার করা উচিত নয়। কতজন নাগরিক নিরাপত্তা ফিরে পেয়েছেন এবং কতটি পরিবার নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পেরেছে, সেটিই অগ্রগতি মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড।
জা.অর্থনীতি/এসআই