প্রতিক্রিয়াহীন আমির খান

বিনোদন ডেস্ক: পর্দায় তাঁরা পরম বন্ধু হলেও জটিল ও স্পর্শকাতর বিতর্কের মুখে বন্ধুকে এড়িয়ে চলাই যেন শ্রেয় মনে করলেন বলিউডের 'মিস্টার পারফেকশনিস্ট' খ্যাত আমির খান। দিনকয়েক আগে অভিনেতা সঞ্জয় দত্তের দেশ ও শান্তি সংক্রান্ত এক মন্তব্য ঘিরে নেটপাড়ায় তুফান উঠলেও, সেই প্রসঙ্গে আমির ছিলেন প্রতিক্রিয়াহীন।

সম্প্রতি মুম্বইয়ে আয়োজিত ‘সেলিব্রেট সিনেমা ফেস্টিভ্যাল ২০২৬’-এর একটি সাংবাদিক সম্মেলনে হঠাৎ করেই সামনে আসে সঞ্জয় দত্তের সেই বিতর্কিত মন্তব্য, ‘ভারতে এখন আর শান্তি খুঁজে পাই না।’ আর সেই প্রশ্ন করতেই চরম অস্বস্তিতে পড়েন আমির খান। ক্যামেরার সামনে স্পষ্ট দেখা যায়, প্রশ্নটা শোনার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর মুখের অভিব্যক্তি বদলে যায়। একটু অপ্রস্তুত হেসে হাত নেড়ে সাফ বুঝিয়ে দেন যে, এই বিষয়ে তিনি কথা বাড়াতে চান না। মুহূর্তের মধ্যে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে সভাকক্ষ থেকে সরে যান তিনি।

চলচ্চিত্রের পর্দায় ‘থ্রি ইডিয়টস’ হোক কিংবা ‘পিকে’—আমির ও সঞ্জয়ের অনস্ক্রিন ও অফস্ক্রিন বন্ধুত্বের কথা ভক্তদের অজানা নয়। কিন্তু বন্ধু যখন প্রকাশ্যে দেশজুড়ে বিতর্কের মুখে, তখন আমিরের এই কৌশলগত নীরবতা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা।

অনেক নেটিজেন পুরনো দিনের আমিরের সেই ‘অসহিষ্ণুতা’ সংক্রান্ত মন্তব্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তাঁর দ্বিমুখী নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কেউ কেউ আবার রসিকতা করে লিখেছেন, সেলিব্রিটিদের এমন রাখঢাক করা প্রতিক্রিয়া নতুন কিছু নয়।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে সোনম ওয়াংচুকের আন্দোলন ইস্যু হোক কিংবা বিভিন্ন সমসাময়িক বিতর্ক, সবকিছুতেই আমিরের নির্লিপ্ত ভূমিকা বারবার তাকে কাঠগড়ায় দাড় করিয়েছে। অনুরাগীরা আজও মনে করেন, একজন দায়িত্বশীল শীর্ষ তারকা হিসেবে কঠিন সময়ে বন্ধু কিংবা সমাজের পাশে দাড়ানো উচিত ছিল। কিন্তু রুপালি পর্দার জাঁকজমক আর বাস্তব জীবনের হিসাব-নিকাশ তো আর এক নয়; হয়তো দিনশেষে ব্যক্তিগত বা পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এমন দূরত্ব বজায় রাখা পছন্দ করেন তারকারা।

জা. অর্থনীতি/এআর