চট্টগ্রাম বন্দরে বাড়ছে ডিজিটাল সেবা, ৭২ ঘণ্টায় পেমেন্ট না হলে অটো পুল
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: বন্দর ব্যবহারকারীদের সেবা সহজীকরণ, দ্রুত পণ্য খালাস, স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ ও বন্দর এলাকার যানজট নিরসনে ডিজিটালাইজেশন ও অটোমেশন কার্যক্রম আরও জোরদার করছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক)। এর অংশ হিসেবে বন্দরের সেবা প্রদান ও অর্থনৈতিক লেনদেন পুরোপুরি অনলাইনের আওতায় আনার পাশাপাশি পেমেন্ট ব্যবস্থায় নতুন বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সম্মেলন কক্ষে চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় ডিজিটালাইজেশন ও অটোমেশনের সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনা করে এসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, বর্তমানে বন্দরের ১০০ শতাংশ ভেসেল বিল অনলাইনের মাধ্যমে সম্পাদিত হচ্ছে। এর পাশাপাশি কনটেইনার ও কনসাইনমেন্ট বিল শতভাগ টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেম (টিওএস)-এর মাধ্যমে প্রস্তুত ও আদায়ের জোরালো নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নবনির্মিত ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারে সোনালী ব্যাংক পিএলসির বিশেষ বুথ স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া এপিআই (API) ইন্টিগ্রেশনের মাধ্যমে ছুটির দিন ও দাপ্তরিক অফ-টাইমসহ ২৪ ঘণ্টা যেকোনো সময় অনলাইন পেমেন্টের সুবিধা চালু করা হচ্ছে।

সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বন্দরের মাশুলাদি আদায়সংক্রান্ত পাওনা পেমেন্ট ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সম্পন্ন না করা হলে স্বয়ংক্রিয় ‘অটো পুল পেমেন্ট সিস্টেম’ চালু করা হবে। টিওএসের মাধ্যমে টাইম স্লট ম্যানেজমেন্ট, অনলাইন কার্ট টিকিট, ই-গেট চালান, শতভাগ ভেসেল ই-এনওসি প্রদান এবং গেট-ইন ও গেট-আউট কার্যক্রমও শতভাগ অনলাইনের আওতায় আনা হয়েছে।

একই সঙ্গে টিওএসের নতুন সংস্করণে ড্রপ টিকিট, পিকআপ টিকিট ও ইআইআর ই-গেট পাসের কার্যকর সমন্বয় ঘটিয়ে বন্দর এলাকার দীর্ঘদিনের যানজট কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি টার্মিনালে ‘স্ট্রিট-বাই-স্ট্রিট’ ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে পেমেন্টভিত্তিক আধুনিক ট্রাক পার্কিং টিকিটিং ব্যবস্থা ইতিমধ্যে চালু হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো চট্টগ্রাম বন্দরকে সম্পূর্ণ কাগজবিহীন (পেপারলেস) ও পূর্ণাঙ্গ ‘স্মার্ট পোর্ট’-এ রূপান্তরের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্ট সব বিভাগকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। অটোমেশন ও আধুনিকীকরণের ফলে আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের সময় ও খরচ সাশ্রয়ের পাশাপাশি দ্রুত রাজস্ব আদায় নিশ্চিত হচ্ছে বলে দাবি চবকের। বন্দরের সার্বিক উন্নয়নে সব ব্যবহারকারী ও অংশীজনকে এই ডিজিটাল কার্যক্রমে পূর্ণ সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি