গাজীপুর প্রতিনিধি: দীর্ঘ অপেক্ষার পর দ্বিতীয় সমাবর্তনের আয়োজন করতে যাচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। আগামী ২৩ জানুয়ারি ২০২৭ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হবে।
সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ও রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত থাকার জন্য সদয় সম্মতি দিয়েছেন।
সমাবর্তন আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) গাজীপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে উচ্চপর্যায়ের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সমাবর্তন সুষ্ঠু ও সফলভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টদের মতামতের ভিত্তিতে সমাবর্তন ব্যবস্থাপনা কমিটি ও বিভিন্ন উপকমিটি গঠন করা হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. নাজমুল হোসাইন, রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল-হোসেনসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও দপ্তর প্রধানগণ।
সভায় ভাইস-চ্যান্সেলর সমাবর্তন আয়োজনের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন। সমাবর্তন শিক্ষার্থীর দীর্ঘ শিক্ষাজীবনের অর্জন ও সাফল্যের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির দিন। তাই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর প্রত্যাশার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে একটি সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও স্মরণীয় সমাবর্তন আয়োজন করতে হবে।
এর আগে গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহর নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রতিনিধি দল।
সাক্ষাৎকালে ভাইস-চ্যান্সেলর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তনে চ্যান্সেলর হিসেবে রাষ্ট্রপতিকে উপস্থিত থাকার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করে সমাবর্তনে উপস্থিত থাকার সম্মতি দেন। একই সঙ্গে সমাবর্তন সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘ বিরতির পর দ্বিতীয় সমাবর্তনের আয়োজন ঘিরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে ইতোমধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুলসংখ্যক গ্র্যাজুয়েটের অংশগ্রহণে সমাবর্তনটি একটি বড় আয়োজন হিসেবে অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
অপরদিকে আগামী ৩ মাসের মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কার্যক্রম পেপারলেস করার কাজ শেষ করা হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। পুরোনো নথি আর্কাইভে নেওয়ার পাশাপাশি ডি-নথির ব্যবহার আরও বাড়ানো হবে বলে জানান তিনি।
সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে কর্মকর্তাদের কারিগরি ও প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়াতে আয়োজিত প্রশিক্ষণ কর্মশালার সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ভাইস-চ্যান্সেলর। মানবসম্পদ উন্নয়ন ও শুদ্ধাচার দপ্তরের আয়োজনে ‘Enhance Technical and Administrative Skills for National University Officials’ শীর্ষক এ প্রশিক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮৩ জন কর্মকর্তাকে সনদ প্রদান করা হয়।
অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, ‘আগামী তিন মাসের মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় পেপারলেস হচ্ছে। ডি-নথিতে যারা মাস্টার ট্রেনার আছেন, তাদের আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে। পুরোনো নথিগুলো আর্কাইভে নিয়ে যাব। এ ধরনের প্রশিক্ষণ চলতে থাকবে।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ্ ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হোসেন। প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা কর্মকর্তাদের হাতে সনদপত্র তুলে দেন ভাইস-চ্যান্সেলর ও অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা।
কলেজ পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) নাজিম উদ্দিন আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্নাতকোত্তর শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. ফকির রফিকুল আলম, স্নাতকপূর্ব শিক্ষা বিষয়ক স্কুলের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. আশেক কবির চৌধুরী, রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল-হোসেন, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও শুদ্ধাচার দপ্তরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মুহাম্মদ কামাল হাছানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তাগণ।
—জা. অর্থনীতি/এনজে