শিক্ষা ডেস্ক: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন আগামী ২৩ জানুয়ারি ২০২৭ অনুষ্ঠিত হবে। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ একটি গণমাধ্যমকে সঙ্গে একান্ত আলাপকালে এই তথ্য জানান।
তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন আগামী ২৩ জানুয়ারি ২০২৭ অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এতে উপস্থিত থাকতে সম্মতি প্রদান করেছেন।
এর আগে, রবিবার দুপুরে রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।
সাক্ষাৎকালে ভাইস-চ্যান্সেলর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও একাডেমিক কার্যক্রমের সার্বিক চিত্র রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর গত দুই বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এর মাধ্যমে যেসব পরিবর্তন আনার চেষ্টা চলছে, সেসব বিষয়েও রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন তিনি। একই সাথে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তনের বিষয়েও আলোচনা হয়।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৯২ সালে। গত ৩৩ বছরে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র একবার সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির অধিভুক্ত কলেজ থেকে পাশ করে বের হওয়া লাখ লাখ গ্র্যাজুয়েট বঞ্চিত হচ্ছেন সমাবর্তনে অংশগ্রহণ থেকে। পাশাপাশি মূল সনদ তুলতে গিয়েও বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে তাদেরকে। সমাবর্তনের দাবিতে কয়েকবার আন্দোলনেও নেমেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা।
প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর পর প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৭ সালের ১৭ জানুয়ারি। বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে এ সমাবর্তন হয়। এরপর ৮ বছরে একাধিক বার সমাবর্তন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিলেও তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটদের দাবি, নিয়মিত সমাবর্তন আয়োজন করা হোক। এরমধ্য দিয়ে শিক্ষা জীবনের আনুষ্ঠানিক পাঠ সম্পন্ন করে মূল সনদ তুলতে আর বিড়ম্বনায় পড়তে হবে না তাদের।
জানা গেছে, অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য থাকাকালীন সময়ে ২০১৭ সালে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে কোনো উপাচার্য এই উদ্যোগ নেননি।
প্রথম সমাবর্তনে ১৯৯৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৪ হাজার ৯৩২ জন নিবন্ধনকৃত স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী এতে অংশ নেন। এদের মধ্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জন করায় আট শিক্ষার্থীকে স্বর্ণপদক দেওয়া হয়েছিল।
—জা. অর্থনীতি/এএইচএ